গ্রিন হাউজ গ্যাসের লাগামহীন নিঃসরণ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৯ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের হার নতুন রেকর্ড গড়েছে। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, ২০১৮ সালে গ্রিন হাউজ গ্যাসগুলোর মধ্যে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়েছে ৪০৭ দশমিক ৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন); যা তার আগের ১০ বছরের গড়েরও অনেক বেশি আর ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। আর প্রাক-শিল্পবিপ্লবের সময়ের চেয়ে ১৪৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, শুধু কার্বন ডাই-অক্সাইডই নয়, এ সময়ে অন্যান্য গ্রিন হাউজ গ্যাসের মধ্যে মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের নিঃসরণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রধান পেত্তেরি তালাস বলেন, গত দশকে এ ধরনের গ্যাস নিঃসরণের হার কমার কোনো লক্ষণও চোখে পড়েনি; বরং প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনে এ ধরনের গ্যাস নিঃসরণ প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল সে ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে বিস্তর ফাঁরাক দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লার, গাড়ি ও কলকারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাসের জীবাশ্ম জ্বালানির অতি ব্যবহার বিশ্বকে ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব জলবায়ু অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যা মানুষ কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। এখনই যদি এর লাগাম টানা না যায়, তবে পরিণাম হবে ভয়াবহ। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা যেখানে আগামী এক দশকের মধ্যে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস ও তিন দশকের মধ্যে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমানোর কথা, সেখানে উল্টো হবে সবকিছু। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে ১০ থেকে ২০ মিটার। 

পেত্তেরি তালাস বলেন, মোটকথা কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্যাসের নিঃসরণ কমানো না গেলে পৃথিবী ৩০ থেকে ৫০ লাখ বছর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। যে পৃথিবী আক্ষরিক অর্থে মানুষের জন্য বাসযোগ্য হবে না। তাই এ অবস্থায় এসে আমাদের দরকার লক্ষ্যমাত্রা নতুন করে নির্ধারণ করা।

গ্লোবাল অ্যাটোস্পিয়ার ওয়াচ নেটওয়ার্কের পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণের বর্তমান যে অবস্থা তা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে কোটি কোটি মানুষ ভয়ংকর খরা ও বন্যার কবলে পড়ে চরম দরিদ্র হয়ে পড়বে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত গ্যাসগুলোর পাশাপাশি পশুর খামার, কৃষিকাজ ও জীবাশ্ম জ্বালানির উত্তোলন-প্রক্রিয়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ১৭ শতাংশ দায়ী। এর মধ্যে ধানের মতো ফসল চাষ করতে গিয়ে জমিতে যে সার দেওয়া হচ্ছে তার থেকেও বাতাসে মিশছে নাইট্রাস অক্সাইড। এ ছাড়া কৃষিজমির জন্য যে বন বা ঝোপঝাড় পোড়ানো হচ্ছে তার থেকেও বাতাসে মিশছে গ্যাসটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার আর বন পোড়ানোর থেকেই যে নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরিত হচ্ছে তা ১৭৫০ সালের চেয়ে ২৩ শতাংশ বেশি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত