প্রিয়া। জনপ্রিয় ও প্রতিবাদী সিরিজভিত্তিক কমিক চরিত্রের নাম। সমাজে নারীদের অসংগতি-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা ও এর বিরুদ্ধে লড়াই করাই যার কাজ। নারীদের প্রতি অবিচারের প্রশ্নে অবতার হিসেবে আবির্ভূত হয় প্রিয়া। ধর্ষণ ও এসিড সন্ত্রাসের পর এবার নারীপাচার রোধের আন্দোলনে দেখা যাবে তাকে।
২০১৪ সালে সিরিজের প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। দু’বছর (২০১২) আগে দিল্লিতে চলন্ত বাসে তরুণী ধর্ষণের প্রতিবাদস্বরূপ প্রথম আবির্ভূত হয় প্রিয়া। সমাজে নারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতেই প্রিয়ার আবির্ভাব হয়েছিল।
‘প্রিয়া শক্তি’ নামে ওই সংস্করণে সাহা নামের বাঘের পিঠে চড়ে অবতাররূপে আবির্ভূত হয়েছিল কৃষ্ণবর্ণের প্রিয়া। ধর্ষণের প্রতিবাদস্বরূপ এরকম ভয়ংকর রূপে প্রিয়ার আগমন ঘটে। ‘প্রিয়ার আয়না’ নামে দ্বিতীয় সিরিজে এসিড সন্ত্রাসের বিরোধিতা করেছে প্রতিবাদী এই চরিত্রটি।
সিরিজের সর্বশেষ সংস্করণ হলো ‘প্রিয়া এবং নিখোঁজ মেয়ে’। এই পর্বে প্রিয়ার লড়াই হয় নারী পাচারকারী রাহুর সঙ্গে। গল্পে রাহুকে একজন নরপিশাচ বলা হয়েছে। যে কিনা শহরে একটি পতিতালয় চালু করেছে। সেখানে প্রিয়ার বোন লক্ষ্মীসহ অসংখ্য নারীকে আটকে রাখা হয়েছে। গল্পে সাহার পিঠে চড়েই রাহুর আস্তানায় হামলা করে প্রিয়া। সেখানে মেয়েদের পুরুষদের মনোরঞ্জনের জন্য আটকে রাখা হয়েছে। যারাই এর প্রতিবাদ করতে যায়, তাদেরই পাথর বানিয়ে ফেলে রাহু।
সাহার হৃৎপিণ্ড ধারণ করে প্রিয়া আরও বেশি সাহসী ও দাপুটে হয়ে ওঠে। সেদিন নিজের জীবন বাজি রেখে রাহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় প্রিয়া। অবশেষে যুদ্ধে জযী হয়ে তার বোন লক্ষ্মীসহ বন্দি নারীদের মুক্ত করে বীরদর্পে গ্রামে ফিরে আসে প্রিয়া।
ইন্দো-আমেরিকান অভিনেত্রী এবং লেখিকা দীপ্তি মেহতা কমিকটির কাহিনীচিত্র লিখেছেন। তিনি তার গল্পে নারীদের জীবনকে ভারতীয় পুরাণশাস্ত্র অপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েছেন। কিছু কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গল্পটি ফুটিয়ে তুলেছেন। অসংখ্য নারীবাদী উক্তি দিয়ে সাজানো গল্পটি নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিতে সক্ষম হবে।
