তোহা মণির খিদে পেয়েছে। তার জন্য দুধ গরম করতে হবে। বাসায় গ্যাস নেই। তাই তাড়াহুড়োয় তোহাকে কোলে নিয়ে লাকড়ির চুলায় কেরোসিন ঢেলে তাতে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরাতে যান মা ঝুমি আক্তারের।
চুলায় ম্যাচের জ্বলন্ত কাঠি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। সেই আগুনে প্রাণপ্রদীপ নিভে যায় চার বছরের ফুটফুটে ছোট্ট শিশু তোহা মণির।
সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় তোহা।
তোহার বাবার নাম ফেরদৌস গাজী। তিনি পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সম্প্রতি একটি ওয়ার্কশপে কাজ নেন।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধারীর জুরাইনের মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডের ভাড়া বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয় তোহা। একই সময় তোহার মা ঝুমি আক্তার, ফুফু শাহিনুর বেগম ও মামাতো বোন কাজলী আক্তারও দগ্ধ হয়। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়।
তোহার বাবা বলেন, ‘তারা যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেখানে গ্যাস নেই। বৃহস্পতিবার রাতে চুলায় কেরোসিন তেল আগুন ধরাচ্ছিলেন তোহার মা ঝুমি। ওই সময় তোহা তার কোলেই ছিল। চুলার কাছেই বসা ছিল তোহার ফুফু ও মামাতো বোন। দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে চুলায় দিতেই তা দাউ দাউ করে জলে ওঠে। আর এতে আগুন ধরে যায় তোহার শরীরে। তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেল তোহা।’
তোহার চিকিৎসক এএফএম আরিফুল ইসলাম নবীন বলেন, তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। সে বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সাত নম্বর বেডে ভর্তি ছিল। শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় সব চেষ্টা করেও শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।
চিকিৎসক আরও জানান, শিশুটির মা ও ফুফু সামান্য দগ্ধ ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
