ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আসামের এনআরসির ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হবে না। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভারতের আসামে এনআরসির কারণে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় গতকাল (রবিবার) বিজিবি ৪৬ জনকে আটক করেছে। এতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেল কি নাÑ এমন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন হয়নি। আসামের নাগরিকত্ব তালিকার (এনআরসি) ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের এখানে
থাকা-খাওয়াতে সুবিধা বেশি এরকম একটি আশ্বাসে তাদের এখানে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে বিজিবি ২৪০ জনকে আটকও করেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার উদ্বিগ্ন কি নাÑ জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু থাকলে উদ্বেগ তো কিছু থাকবেই। এটা দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। তবে এখানে উদ্বেগের কোনো কারণ দেখছি না। সাময়িক একটা অস্বস্তির কারণে এমনটা হচ্ছে। এর আগেও অনেক বিষয় আলাপ-আলোচনা করেই আমরা সমাধান করেছি। এ বিষয়টিও আলোচনা করে সমাধান করা হবে। নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার পিছু হটল কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে পিছু হটার বিষয় নেই, আইনি অবস্থান রেখেই সহনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। ধর্মঘট হলে কী হতো বলুন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলতে পারি, পুলিশ দিয়ে ওদের পেটাও, এটা কি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতো? আমরা হট অ্যান্ড কুল নীতিতে এগিয়ে যাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা যে দাবি জানিয়েছে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা যাচাই-বাছাই করে দেখব, এগুলো সময়ের প্রয়োজন। এ মুহূর্তে আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়, কারণ আইনটি পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টা আলাপ করব।’
অনুমতি না নিয়ে সভার সাহস বিএনপির নেই : আরেক প্রশ্নে বিএনপির অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার ঘোষণাকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘বিএনপি নেতারা তাদের নেত্রীকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ৫০০ কর্মী নিয়ে একটি মিছিল-মিটিং করতে পারেনি। তারা কীভাবে অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করবে? বিষয়টি হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সেই সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা বিএনপির নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আমরাও অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করতে পারিনি। আমাদের সময় এমনও হয়েছে, আগের দিন রাতে আমরা সভার অনুমতি পেয়েছি।’
