এক কেজি দুধে কতটুকু পানি মেশানো যায়। আর কতটুকু পানি মেশালে সেটি ৮১ জনকে খাওয়ানো যেতে পারে। এমনই একটি কাণ্ড ঘটেছে ভারতের একটি স্কুলে।
উত্তরপ্রদেশের সবচেয়ে দারিদ্র্যপীড়িত সনভদ্র জেলার একটি স্থানীয় স্কুলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় এনডিটিভি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সরকারি মিড-ডে মিল কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক কেজি গুঁড়ো দুধের একটি প্যাকেট বড়সড় একটি পাতিলের পানিতে মেশানো হচ্ছে।
গরম করার পর একজন নারী পাচক পরে ওই দুধ গ্লাস হাতে অপেক্ষমাণ স্কুলের ৮১ জন শিক্ষার্থীকে একে একে পরিবেশন করেন।
জানা গেছে, সনভদ্রার চোপানের ওই স্কুলের মোট শিক্ষার্থী ১৭১ জন। বুধবার যখন মিড-ডে মিলের দুধ পরিবেশন করা হচ্ছিল, তখন ৮১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
একজন পঞ্চায়েত সদস্য এই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করেন। সেখানকার পরিবারগুলো দারিদ্র্যপীড়িত হওয়ায় শিশুদের ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিতে দিনে অন্তত সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের একটি খাবার পরিবেশন প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল জালিয়াতি ফাঁস করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের দুই মাস পর এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল। শিশু শিক্ষার্থীরা কেবল লবণ দিয়ে রুটি খাচ্ছিল- এমন ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ায় রাজ্য সরকারের মানহানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুকেশ কুমার বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পর ওই দিনই স্কুলটিতে আরও দুধ সরবরাহ করা হয়েছে। সঠিক পরিমাণ দুধ থাকা সত্ত্বেও কেন শিশু শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত দুধ সরবরাহ করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে স্কুলের ওই পাচক ফুলওয়ান্তি বলেন, ‘আমি এক পাতিল পানির সঙ্গে এক কেজি দুধ মিশিয়েছি। আমাকে গতকাল এক প্যাকেট দুধ দেওয়া হয়ছিল, তাই আমাকে এটা করতে হয়েছিল।’
