১২ হাজার বছরের পুরনো শহর ডোবাতে বাঁধ

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯ পিএম

পূর্বপুরুষের ভিটা ছাড়ার সময় হয়েছে রামসিজ আলচিনের। টাইগ্রিস নদীর ওপর কয়েক দশক ধরে তুরস্কের নির্মিত বাঁধের কারণে ডzবে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে ১২ হাজার বছরের পুরনো শহর হাসানকেইফের। বছরের পর বছর প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেও শহরটির বাসিন্দারা বাঁধ নির্মাণ আটকাতে পারেনি।

আলচিনের মতে, তুরস্ক সরকারের সিদ্ধান্তে হাসানকেইফের মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

ইলিসু নামের ওই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বিশালাকার এক জলাধার তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে। এই জলাধারের তলায় হারিয়ে যাবে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহর হাসানকেইফ। তুরস্ক সরকারের কাছে এই বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম অংশ। সৃষ্ট জলাধারের কারণে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, হাসানকেইফের প্রাণবৈচিত্র্যও নষ্ট হয়ে যাবে। গোটা শহর দেখলে মনে হবে এক জীবন্ত জাদুঘর। এ শহরটি নিউলিথিক, বাইজানটাইন, রোমান ও অটোমান সামাজ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক শহরটিতে যায়। এত কিছু থাকার পরও তুরস্ক সরকার শহরটিকে রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

নৃতাত্ত্বিক ও বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছেন শহরটিকে রক্ষায়। কিন্তু সরকারের দমনপীড়নের মাত্রা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় শহরবাসী। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, শহরটি রক্ষায় তুরস্কের অনাগ্রহের অন্যতম কারণ শহরটির বাসিন্দারা সবাই জাতিতে কুর্দি। আর কুর্দিদের তুর্কি সরকার কোন চোখে দেখে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবার জানা।

আঞ্চলিক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ এই ইলিসু বাঁধ। এর কারণে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস নদীর পানির প্রবাহ কমে গেছে আগের তুলনায়। এই নদীগুলো হয়েই ইরাক ও সিরিয়ায় পানি যায়। টাইগ্রিসে বাঁধ দিয়ে তুর্কি প্রশাসন এই দেশগুলোকেও চাপে রাখতে চায়, যেমনটা এশিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ দিয়ে ভারত-বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে চীন।

প্রতিবাদের কারণে ২০০৯ সালে ইউরোপিয়ান ঋণদাতারা বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু ২০১০ সালেই তুর্কি সরকারকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় স্থানীয় ব্যাংকগুলো বাঁধের কাজ শেষ করতে। আর এভাবেই প্রাচীন এক শহরের নাম-নিশানা মুছে ফেলা হচ্ছে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত