সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের গেটে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক প্রসূতির সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক বনশ্রী শাহার বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
ওই প্রসূতির স্বামী মো. আব্দুর রহিম স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
তার অভিযোগে থেকে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের রূপসাচর গ্রামের মো. আব্দুর রহিম এ দিন রাত ১০টার দিকে তার স্ত্রী মোছা. রহিমা খাতুনকে (২২) প্রসববেদনা নিয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তি হওয়ার পর প্রসবের কোনো ব্যথা না থাকায় ও রক্ত স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক বনশ্রী শাহা ছাড়পত্র দিয়ে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
তিনি জানান, ওই হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে তার স্ত্রীকে নিচে নামানোর পর তার প্রসববেদনা আরো তীব্র হয়। এরপর হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনের খোলাস্থানেই তিনি সন্তান প্রসব করেন। পরে রোগীর স্বজনদের চাপের মুখে ওই চিকিৎসক প্রসূতিকে প্রসূতি ওয়ার্ডে ও নবজাতককে শিশু ওয়ার্ডে নিয়ে যান।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রসূতি ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাহমিদা খাতুন ও শিল্পী খাতুন বলেন, প্রসূতি রহিমাকে ডা. বনশ্রী শাহা ছাড়পত্র দেওয়ায় আমরা তাকে চলে যেতে বলেছিলাম।
এ বিষয়ে প্রসূতি রহিমা খাতুন বলেন, তিনি যখন প্রসব ব্যথায় কাতর তখন হাসপাতালের সেবিকারাও তাকে সাহায্য করতে আসেনি।
তারা জানান মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক বনশ্রী শাহা বলেন, রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় তাকে রেফার্ড করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। প্রসূতির অবস্থা জটিল হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন। তার কর্তব্যে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
