প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পরও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোনো জায়গা বা ডাস্টবিন। যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এমনকি ময়লা ফেলার জন্য ক্যাম্পাসের কোথাও নেই কোনো প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা পাত্রেরও ব্যবস্থা। যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে জায়গায় জায়গায় জমেছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের জানালার পাশে রয়েছে আবর্জনার বড় স্তূপ। ক্যান্টিনের পাশে হিন্দু ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশেও রাখা হয়েছে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ময়লার স্তূপ। একই চিত্র দেখা যায় ডাইনিং হলগুলোর রান্নাঘরের আশপাশেও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শের-ই-বাংলা ও বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন এলাকায় সারা বছরই যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। অস্বস্তিকর এমন পরিবেশে হলের পাশের রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে নাক-মুখ চেপে ধরে রাখতে হয়। এছাড়া ক্যাফেটেরিয়া, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, মুক্তমঞ্চ ও শহীদ মিনারের আশপাশসহ চারদিকই যেন হয়ে উঠেছে ময়লা-আবর্জনার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডাস্টবিন। আর ময়লা-আবর্জনার এসব স্তূপ হয়ে উঠেছে মশার আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র। মশার উপদ্রব এতটাই যে, বঙ্গবন্ধু হলের নিচতলার কক্ষগুলোর জানালায় নেট লাগিয়েও রক্ষা মিলছে না শিক্ষার্থীদের।
মাত্র ৫০ একরের ছোট্ট এই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিন গিয়ে চোখে পড়ে ২৫-৩০টি ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি ও পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাবে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে যেখানে-সেখানে। ফলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির মাধ্যমে এসব আবর্জনার স্তূপ থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক জানান, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে চর্ম ও পানিবাহিত রোগসহ ম্যালেরিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবে ক্যাম্পাসের পরিবেশ দিন দিন আরও নোংরা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করেনি প্রশাসন। ক্যাম্পাসের ভেতরের এমন বেহাল দশায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার কারণে মাটি যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘুরে দেখা যায়, সবকটি রাস্তার দুই পাশেই পড়ে আছে নানা রকমের আবর্জনা। পুরো ক্যাম্পাসেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে খাদ্যসামগ্রী ও তামাকজাতীয় দ্রব্যের মোড়ক, কোমল পানীয়ের বোতল এবং প্যাকেটজাত খাবারের মোড়ক ও প্লাস্টিকের নানা আবর্জনা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট রাহাত হোসাইন ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের মধ্যে বা আশপাশে এমন কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই যে সেখানে ময়লা ফেলা হবে। তাই বাধ্য হয়ে পাশেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মাটির স্থায়িত্ব এখনো না আসায় ড্রেন করাও সম্ভব হচ্ছে না। ড্রেনেজ সিস্টেমের বিকল্প নেই। কিন্তু তা কত দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে সেটাই চিন্তার বিষয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন (আরেফিন মাতিন) দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখানে যোগদানের পর হল পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি নজরে এসেছে। আসন্ন স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষে পরিষ্কার ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব। প্রয়োজনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে।’
