ঝালকাঠির নলছিটিতে একটি দরবার শরিফের খানকার ভেতরে গলা কেটে প্রয়াত এক পীরের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার নাম সজল দেওয়ান (২৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নলছিটি পৌরসভার মালিপুর মহল্লার আল কাদেরিয়া দরবার শরিফের খানকার ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কক্সবাজারের টেকনাফে আনোয়ারুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবককে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হ্নীলা আলী আকবরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে।
ঝালকাঠিতে নিহত সজল দেওয়ান নলছিটি পৌরসভার মালিপুর মহল্লার আল কাদেরিয়া দরবার শরিফের প্রয়াত পীর আমির দেওয়ানের ছেলে।
এলাকাবাসী দেশ রূপান্তরকে জানায়, দরবারের খানকার একটা কক্ষে একাই বসবাস করতেন নিহত সজল। গতকাল সকালে বোন সখি খানকার সামনে গিয়ে সজলের কক্ষের দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সজলের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে সখি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নলছিটি থানায় নিয়ে যায়। মরদেহের পাশ থেকে একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দা দিয়েই সজলকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানায়, আল কাদেরিয়া দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সজলের দাদা কালু শাহ। পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে সজলের বাবা আমির দেওয়ান ওই দরবার শরিফের পীরের দায়িত্ব পান। তার মৃত্যুর পর সজলের চাচা আনোয়ার দেওয়ানের সঙ্গে দরবারের পীর পদ নিয়ে চাচা-ভাতিজার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে কিছুদিন আগে চাচা আনোয়ারকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় কারাগারে ছিল সজল। ওই মামলা বর্তমানে ঝালকাঠির আদালতে বিচারাধীন।
নিহতের বড় ভাই মাহফুজ দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা কাউকে সন্দেহ করছি না। এ ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করলেই সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে।’
নলছিটি থানার ওসি মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, সজলের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
টেকনাফে শ্বশুরবাড়িতে জামাই খুন : কক্সবাজারের টেকনাফে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনোয়ারুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি রঙ্গিখালী মাদ্রাসাপাড়ার সুলতান আহমদের ছেলে। নিহত আনোয়ারুলের স্বজনদের ভাষ্য, শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, নিহত আনোয়ারুল হ্নীলার আলী আকবরপাড়ার সৌদি প্রবাসী মমতাজ মিয়ার মেয়ে হাসিনাকে বিয়ে করেন। নিজ বাড়িতে পারিবারিক জটিলতার কারণে স্ত্রীকে নিয়ে ছয় মাস আগে শ্বশুরবাড়িতে এসে বসবাস করছিলেন তিনি। সেখানে প্রায়ই এই দম্পতির মধ্যে কলহ হতো। গত বুধবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। পরে গতকাল দুপুরে আনোয়ারুলকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। এ খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মরদেহে ছুরিকাঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।
নিহত আনোয়ারুলের ভাই রশিদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুবিচার চাই।’ টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক এবিএমএস দোহা বলেন, ‘আনোয়ারুলকে হত্যার ঘটনায় তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
