যুক্তরাজ্যের লেবার নেতা জেরেমি করবিন এবার কনজারভেটিভদের ‘নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও কাস্টমস তল্লাশি’ পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে কনজারভেটিভ নেতা প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জনগণকে ‘ভুলপথে’ চালনা করছেন বলে অভিযোগ করেন করবিন।
লেবার নেতা যে নথিটি ফাঁস করেছেন তার শিরোনাম, ‘নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড প্রটোকল : যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারে অবাধ প্রবেশ’। গতকাল শুক্রবার সেন্ট্রাল লন্ডনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ওই নথি প্রকাশ করেন করবিন।
ব্রেক্সিটের পর গ্রেট ব্রিটেন ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কাস্টমস তল্লাশি করা হবে। কনজারভেটিভদের ফাঁস হওয়া ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় এমন ব্যাপার রয়েছে বলে দাবি করেন করবিন। তিনি বলেন, ‘জনসনের নিজের সরকার অফিসিয়াল, স্পর্শকাতর, যা উন্মুক্ত হলে রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে–এমন কথা বলে ব্রেক্সিট ইস্যুকে সামনে নিয়ে গেছে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিষয়টি পুরোটাই গোপন করা হয়েছে। আমাদের হাতে প্রমাণ আছে যে, কনজারভেটিভের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা পাস হলে দেশের বিশাল অংশের ভয়াবহ অবস্থা হবে।’
‘আইরিশ সমুদ্রে কোনো সীমান্ত দেওয়া হবে না’–এমন দাবি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গোড়া থেকেই করে আসছেন। কিন্তু তার এই দাবি পুরোপুরি সত্য নয়। জনসনের এই চুক্তি হলে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে মনে করেন লেবার নেতা। তিনি বলেন, ‘পণ্যের মূল্য রাতারাতি বেড়ে যাবে। এর প্রভাব ব্যবসায়ের মুনাফার ওপর পড়বে। এভাবে যদি জনসন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ভালো চুক্তি করার কথা বলে উল্টো কাজ করতে পারেন, তাহলে আমাদের বাকিদের সঙ্গে তিনি কী করছেন–তা ভেবে দেখা উচিত।’
এদিকে নথি ফাঁসের প্রতিক্রিয়ায় বরিস জনসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন কোনো নথির কথা আমি জানি না। কিন্তু আমি বলব, যে চুক্তির কথা আমি বলছি তার মধ্য দিয়ে গোটা যুক্তরাজ্যকে আবার ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।’ দেশের ভোটারদের উচিত তার কথা বিশ্বাস করা–এমনটাও বলেন জনসন। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘গ্রেট ব্রিটেন হতে কোনো পণ্য নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যাবে না। অথবা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড থেকে কোনো পণ্য গ্রেট ব্রিটেনে যাবে না। কারণ আমরা সম্পূর্ণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। এই একটি মাত্র উদ্দেশ্যই আমরা রক্ষা করে চলেছি।’
