পাঁচ দিনেও ওসির দেখা পাননি বৃদ্ধ আছিয়া

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৩৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামানের দেখা পাঁচ দিনেও পাননি আছিয়া খাতুন নামের ষাটোর্ধ্ব এক নারী। কাঁচপুর কুতুবপুর গ্রামের দেবরের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধে ওসির সহযোগিতা চাইতে এসে তিনি এই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

বিভিন্ন তারিখে পাঁচ দিন সোনারগাঁ থানার বাইরে বসে থেকে তাকে ফেরত যেতে হয়েছে। থানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলরা তাকে ভেতরে যেতে বাধা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। গতকাল শনিবারও সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত থানায় অপেক্ষমাণ ঘরে ওসির দেখার অপেক্ষা করে কারও পরামর্শে সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের দারস্থ হয়েছেন।

আছিয়া খাতুন জানান, কাঁচপুরের কুতুবপুর গ্রামের মিয়া চাঁন সরদারের ছেলে নূর হোসেনের সঙ্গে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে ২০ মে তাকে পিটিয়ে একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে। মনিরুজ্জামান এ মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনারগাঁ থানার এসআই আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আছিয়া খাতুনের তদন্ত প্রতিবেদন ও ডাক্তারি প্রতিবেদনের জন্য টাকা দাবি করেন। আছিয়া খাতুন আমিনুল ইসলামকে তিন হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। ‘জমিসংক্রান্ত কেস বড়’ বলে টাকা দাবি করেন আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আমিনুলকে আসামি নূর হোসেনকে একসঙ্গে হাসাহাসি করে কথা বলতে দেখেছেন। তার ভাষ্য আসামি নূর হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার পক্ষ নিয়ে আছিয়া খাতুনকে হয়রানি করছেন  আমিনুল ইসলাম।

আছিয়া খাতুন জানান, নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করার পর একবার ওসির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই সময়ও ওসি সমস্যার তেমন সমাধান দিতে পারেননি। ওসি আদালতে উকিলের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে চলে যেতে বলেছেন।

তবে এসআই আমিনুল বলেন, ওই মহিলার অভিযোগ সত্য নয়। আদালতে তার করা মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা করতে হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন কেউ করে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,  বিষয়টি আমার জানা নেই। সেবা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। ওই নারীকে থানায় যেতে বলেন, আমি বলে দিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত