প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৪ পিএম

যশোরের শার্শা উপজেলা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয়েরই ২৩ জন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ আগস্ট দৈনিক পত্রিকায় শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয় আগ্রহী প্রার্থীকে অবশ্যই ‘স্নাতকোত্তর’ হতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রম্নয়ারি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ নিয়োগবিধি ভঙ্গ করে সœাতক (ডিগ্রি) পাসের সনদে প্রধান শিক্ষক পদে সহিদুল ইসলামকে নিয়োগ দেয়।

তার নিয়োগের পর বিদ্যালয়টি অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অডিটে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে। অপর এক অডিটে ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। অথচ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে কোনো অডিট না হওয়ায় এ বছরগুলোর অনিয়মের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনীতি ও পেশি শক্তির প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী শার্শা সরকারি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেন না। এভাবে তিনি ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে চলেছেন। কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১৫ দিন হাজতবাসও করতে হয়েছে তাকে।

ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষ থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বাকি ৪ জন শিক্ষক অভিযোগপত্রে সই করেননি।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী হাফিজুর রহমান জানান, তিনি এসএসসি পরীক্ষায়, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব আবহেলার কারণে ১৫ দিন হাজতবাস করেছেন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে।  

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, অর্থ আত্মসাতসহ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত