আশুগঞ্জে মাটি দিয়ে পাকা রাস্তা সংস্কার

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের সংস্কারকাজ মাটি মিশ্রিত পাথর আর নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজে বাধা দিলেও কোনো পরোয়া না করে কাজ চালিয়েই যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ওই সড়ক এলাকার তিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন, তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সামা ও আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম অভিযোগ দেন। তাদের দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সড়কের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগী কমিশনার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীকেও দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন আশুগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন।

জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার আশুগঞ্জ-তালশহর সড়ক দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সংস্কারকাজের জন্য গত বছরের ১৬ জুন দরপত্রসহ সব আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষ। মেসার্স লোকমান হোসেন ও মেসার্স মোস্তফা কামাল নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৮ কিলোমিটার ওই সড়কের সংস্কারকাজের জন্য ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তিমতে চলতি বছরের জুন মাসে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নিমœমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। শিডিউলে যে মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কথা ছিল ঠিকাদারি দুই প্রতিষ্ঠান তার চেয়ে অনেক নিমœমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। গত শনিবার দুপুরে ওই সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, নিমœমানের ইটের খোয়া, বিটুমিন ও মাটি মিশ্রিত পাথরসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে চলছে সংস্কারকাজ। ফলে হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং। তালশহর গ্রামের বাসিন্দা ও  উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আমির হোসেন জানান, সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কার হওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু সড়কটি সংস্কারে যে মানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা ছিল সেটি হচ্ছে না। নিমœমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে।

তল্লা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজউদ্দিন বলেন, সড়কটির কাজ শিডিউলমতো হচ্ছে না। ওপরে কিছু পাথর দিয়ে নিচে সব মাটি দিয়ে রাস্তার কাজ করছে। আমরা চাই ভালো সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি মজবুত করে যেন করা হয়।

আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশীদ জানান, ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার বাজেট হলেও যে কাজ হচ্ছে তাতে দুই কোটি টাকাও লাগবে না।

আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা বন্ধ না হলে আমরা আন্দোলন করব।

তবে সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসেনের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন বলেন, যেটা মাটি বলছে, সেটা পাথরের ডাস্ট। এটা শিডিউলে ধরা আছে।

এলজিইডির আশুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মরিয়ম আখতার বলেন, কিছু সামগ্রীতে সমস্যা থাকার কারণে আমরা ইতিমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত