ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুসলিম সম্প্রদায়কে ঘিরে চিন্তাভাবনা গোপন কোনো বিষয় নয়। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে অমিত শাহ ছিলেন আহমেদাবাদের সারখেজ আসনের রাজনৈতিক পান্ডা। স্থানীয় পর্যায়ে তাকে অমিত ভাই নামে ডাকত সবাই। ১৯৯৭ সালে সারখেজ আসন থেকে এমপি হিসেবে নির্বাচন হন তিনি।
২০০৭ সালে সারখেজের আসনে কংগ্রেস শশীকান্ত প্যাটেলকে দাঁড় করায়, যিনি অমিত শাহের তুলনায় রাজনৈতিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিলেন। তখন শশীকান্তকে শায়েস্তা করতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হওয়া রাজনৈতিক মামলা ফের সক্রিয় করেন অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়, তারা যেন কংগ্রেসের অস্থায়ী পার্টি অফিস খুলতে জায়গা না দেয়।
গুজরাটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রাজিব শাহ সম্প্রতি অমিত শাহের রাজনৈতিক জীবনের কালো অধ্যায়ের কিছু দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন দ্য ওয়্যার সংবাদমাধ্যমে। ২০০২ সালে গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কয়েক সপ্তাহ পরেই গান্ধীনগরে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নিজ আসনে যান অমিত শাহ। তখন সাংবাদিক রাজিব অমিত শাহকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আহমেদাবাদের সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে আপনি কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিশেষ করে আপনার সারখেজ আসেন।’ উত্তরে অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘আপনি কেন দাঙ্গা নিয়ে এতটা চিন্তিত। সারখেজের কোন এলাকায় আপনার, আমাদের অথবা তাদের বাড়ি?’ রাজিব এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর অমিত শাহ ফের বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। আপনার বাড়িতে কিছুই হবে না। যা কিছু হবে তা আপনার এলাকার সীমান্তের বাইরে হবে।’
সারখেজ মূলত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল। এ অঞ্চলের মুসলিমদের অর্থনৈতিক অবস্থা অতটা ভালো নয়। ওই আসনের আঞ্চলিক রাজনৈতিক এতটাই বিভেদপূর্ণ যে, মুসলিমপ্রধান এলাকাকে পাকিস্তান আর হিন্দুপ্রধান এলাকাকে ইন্ডিয়া বলা হয়। আর এ এলাকাগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বলা হয় ‘ইন্দো-পাক সীমান্ত’।
সাংবাদিক রাজিব যখন অমিত শাহকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাস্তব পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন উত্তরে অমিত শাহ বলেন, ‘মনে হচ্ছে আপনি হিন্দুবিরোধী। কমিউনিস্টরাও আমাদের সঙ্গে আছে।’ রাজিব নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে রাজনীতি নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টা করেন। এমন অবস্থায় অমিত শাহ বলেন, ‘আপনাদের মতো সেক্যুলারদের উচিত ইংরেজি বই না পড়ে হিন্দু ধর্মের বই পড়া।’
