চলতি দশকে এমন অনেক কিছুই এসেছে, যা আগের দশকে ছিল না। আবার আগের দশকের অনেক কিছুই বর্তমান দশকে গুরুত্ব হারিয়েছে। শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে নতুন আরেকটি দশক। ২০২০ থেকে ৩০ সালের মধ্যে আরও নতুন নতুন আবিষ্কারে সমৃদ্ধ হবে পৃথিবী। বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন অনেক প্রযুক্তিই হয়তো বিলীন হয়ে যাবে আসন্ন দশকে। সম্ভাব্য বিলীন হতে যাওয়া এসব প্রযুক্তি নিয়ে লিখেছেন সুফিয়ান জিসান
ডিজিটাল ক্যামেরা
২০২০ সাল আসার আগে সদ্য শেষ হতে যাওয়া দশকটির শুরু থেকেই মাতিয়ে রেখেছিল ডিজিটাল ক্যামেরা। যদিও এই দশক শেষ হতে না হতেই এর আবেদন অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছে। অধিকাংশ মানুষই সাধারণ ডিজিটাল ক্যামেরার কথা ভুলতে বসেছে। এর প্রধান কারণ স্মার্টফোন। এখন স্মার্টফোনেই থাকছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরা, যা দিয়ে এইচডি ফরম্যাটে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই ব্যাপারটি এতটাই এগিয়েছে, অনেকে মোবাইল ফোন দিয়েও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে ফেলছে। আর আইফোন ফটোগ্রাফির জন্য বিশেষ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হচ্ছে। তাই এটি মোটামুটি নিশ্চিত যে, ডিজিটাল ক্যামেরা আসন্ন দশকে তার সব জৌলুশ হারাতে বসেছে।
হার্ড ড্রাইভ
কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হার্ড ড্রাইভ। দরকারি অনেক কিছু এখানে সংরক্ষণ করে রাখেন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা। কিন্তু বলা হচ্ছে– ২০২০ থেকে ৩০ সালের মধ্যে মানুষের কাছে হার্ড ড্রাইভের প্রয়োজন অনেক সীমিত হয়ে আসবে। সেই দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন মানুষের কাছে হার্ড ড্রাইভের আর বিশেষ কোনো আবেদনই থাকবে না। কারণ সবাই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফাইল ক্লাউডেই সংরক্ষণ করতে পছন্দ করবে। তাই আলাদা করে আর কোনো শারীরিক স্টোরেজ ডিভাইসের দরকার হবে না।
পেপার ম্যাপ
মানব জীবনে মানচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভৌগোলিক জ্ঞান লাভের জন্য মানচিত্র মানুষের খুব প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। তাই শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের কাছে কাগজের মানচিত্র সংগ্রহ করে রাখেন। কিন্তু নতুন দশকের দ্বারপ্রান্তে এসে বোঝা যাচ্ছে, এ ধরনের কাগুজে মানচিত্র হয়তো আর কোনো কাজেই আসবে না। এখনই যে কেউ যেকোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে চট করে স্মার্টফোনে তা দেখে নিচ্ছেন। গুগল ম্যাপ কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল ম্যাপের মাধ্যমে স্যাটেলাইট থেকেই যেকোনো জায়গার সঠিক অবস্থানসহ ট্রাফিক, আবহাওয়া ইত্যাদি সব তথ্য জেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আসছে দশকে হয়তো বাজার চষে বেড়ালেও কোনো কাগজের মানচিত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ফ্যাক্স মেশিন
এ কথা ভাবলে অবাকই লাগে যে, এখনো ফ্যাক্স মেশিনের অস্তিত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ এগুলো ব্যবহার না করলেও, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে, যেমন সংবাদপত্রের অফিসে আজও ফ্যাক্স মেশিনের ছোটখাটো ব্যবহার হচ্ছে। তবে এমন অনেক অফিসও আজকাল দেখা যাবে, যেখানে ফ্যাক্স মেশিন হয়তো আছে, কিন্তু মাসের পর মাস ধরে এটির কোনো ব্যবহারই হয়নি। এই ইমেইলের যুগে কেনইবা তা হবে! সুতরাং, আর পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে ফ্যাক্স মেশিন বিলুপ্ত হয়ে গেলে অবাক হবেন না যেন!
ডিভিডি ও ব্লু রে প্লেয়ার
মানুষ সিডি কেনা বাদ দিলেও, কিছুদিন আগ পর্যন্তও ডিভিডি ও ব্লy রে কিনত ঠিকই। কারণ সেরা মানের চলচ্চিত্রের জন্য ইন্টারনেট তখন পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু স্ট্রিমিং সার্ভিসের আগমনের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ডিভিডি ও ব্লyy রে প্লেয়ারের প্রচলনও। নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম কিংবা এইচবিও নাউতেই যদি সম্ভাব্য সেরা ভিডিও কোয়ালিটির চলচ্চিত্র দেখা যায়, তা-ও খুবই সীমিত খরচে, তাহলে মানুষ কেন কিনবে ডিভিডি বা ব্লy রে?
ক্যালকুলেটর ও অ্যালার্ম ক্লক
আজকাল পরীক্ষার হলে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো কাজে ক্যালকুলেটর ব্যবহৃত হয় না বলেই চলে। কারণ সব মোবাইল ফোনেই বিল্ট ইন ক্যালকুলেটর থাকে। আর যাদের উচ্চতর দক্ষতাসম্পন্ন ক্যালকুলেটরের প্রয়োজন, তারাও চাইলেই স্টোর থেকে সে ধরনের ক্যালকুলেটর অ্যাপ ইনস্টল করে নিতে পারে।
অন্যদিকে অ্যালার্ম ক্লকের কাজও করে দিচ্ছে মোবাইল ফোনই। এতে শুধু অ্যালার্ম সেট করাই যায় না, পাশাপাশি স্টপওয়াচ, রিমাইন্ডার প্রভ…তি ফিচারও থাকে। আর যারা আরও উচ্চতর ক্ষমতার ঘড়ি চায়, তাদের জন্য রয়েছে স্মার্ট ওয়াচ, যাতে হার্টবিট মাপা থেকে শুরু করে কতটুকু হাঁটা বা দৌড়ানো হয়েছে, সবই পরিমাপ করা যায়।
মোবাইল ফোনের বাটন
তথাকথিত বাটন ফোন তো ইতিমধ্যেই বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছে এবং এখন মোবাইল ফোনে যে একটি বা দুটি বাটন থাকে, সেগুলোও একে একে বিদায় নিতে শুরু করেছে। আজকাল আইফোনে হোম বাটন থাকছে না। এ ছাড়া অনেক অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের মডেল থেকেও বাটন সুবিধা তুলে নেওয়া শুরু হয়েছে। এভাবে একদিন হয়তো কোনো মোবাইল ফোনে আর বাটনের অস্তিত্ব থাকবে না। অর্থাৎ মানুষের আর মোবাইল ফোনের কোনো কিছুই চাপা লাগবে না, কেবল স্পর্শের মাধ্যমেই তাদের কাঙ্ক্ষিত কাজটি হয়ে যাবে।
পাসওয়ার্ড
এখন পর্যন্ত অধিকাংশ ডিভাইস কিংবা অনলাইন আইডিতে ঢোকার ড়্গেত্রেই পাসওয়ার্ড অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু একসময় পাসওয়ার্ডও তার গুরুত্ব হারাবে। ইতিমধ্যেই অ্যাপলের ফেস আইডি, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ হ্যালো প্রভ…তি মুখচ্ছবি চিহ্নিতকরণ প্রযুক্তি রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তির আগমন ঘটবে। ফলে পাসওয়ার্ড হিসেবে বিভিন্ন শব্দ, সংখ্যা, চিহ্ন মনে রাখার ঝামেলা আর করতে হবে না।
