খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সালতা নদী খননের মাটি বিক্রির নামে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এ কাজের জন্য নিলাম প্রক্রিয়াও সঠিক নিয়মে করা হয়নি। নিলাম দরপত্রের মাধ্যমে মাটি বিক্রি করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) ও পাউবো খুলনা-১। নিলাম ক্রেতা হিসেবে কাজটি পেয়েছেন কাজী রুবেল। অভিযোগ, এভাবে মাটি বিক্রি করায় সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত লাভ হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, বছরখানেক আগে উপজেলার সালতা নদী খনন করা হয়। সেই মাটি নদীর পাড়ে রাখা হয় স্ত‚প করে। গত বৃষ্টির মৌসুমে ওই মাটির অধিকাংশ পানিতে ধুয়ে নদীতে চলে যায়। সেখানে এখন রয়েছে পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ। সেই বাঁধকে নদী খননের মাটি দেখিয়ে বিক্রি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৮ নভেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এ কাজে সাহায্য করে খুলনা পাউবো, কার্যালয়-২। নদীর ডzমুরিয়া গুটুদিয়া ইউনিয়নের জিলেরডাঙ্গা গ্রাম হয়ে টিয়াবুনিয়া পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার নদী খননের স্ত‚পকৃত মাটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাটির পরিমাণ ৩ লাখ ঘনফুট। প্রতি ঘনফুট মাটি নিলাম ক্রেতার ধার্যকৃত মূল্য ১ টাকা ২০ পয়সা হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দরপত্রের শর্তও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। কিন্তু এ কাজে আইন ভঙ্গ করে প্রথম এবং একটি মাত্র দরপত্রে গত ১৮ নভেম্বর কাজী রুবেলকে কাজটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিলাম বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ৭ দিনের মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করে মাটির ধার্যকৃত মূল্যসহ ভ্যাট আয়কর বাবদ ৩ লাখ ৬০ হাজার ও ভ্যাট ৬৩ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা পরিশোধ করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সমুদয় মাটি সরিয়ে নিতে হবে। অথচ কার্যাদেশ ও সমুদয় মূল্য পরিশোধ ছাড়াই রুবেল গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর মাটি কাটা শুরু করেন। ওই সময় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি ৬ ডিসেম্বর থেকে আবারও মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ে ২৫ ট্রাক মাটি কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব ট্রাক ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মাটি বহনের কারণে ওই এলাকার কাঁচা, আধা পাকা ও পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে অল্প পরিমাণ খননকৃত মাটি রয়েছে। সেই মাটি কেটে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। ৬টি ট্রাক মাটি বহনের জন্য দাঁড়িয়ে আছে।
এ সময় কাজ তদারকি করছিলেন কাজী রুবেল। তিনি বলেন, ‘দূরত্ব অনুযায়ী আমরা টাকা নিই। ১০-১৫ কিলোমিটার দূরত্ব হলে ৮ টাকা ঘনফুট দরে মাটি বিক্রি করি।’ মোট কত টাকার মাটি কিনলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের লোক এসে ৬০ হাজার ঘনফুট মাটি মেপে দিয়ে গেছে। তার দাম প্রায় ১ লাখ টাকা। এভাবে মাটি কাটলে নদীর পাড়ের কোনো সমস্যা হবে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না। কোনো চুক্তি হয়েছে কি জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। পাউবো খুলনা-১ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) ও মাটি বিক্রয় কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, এটা তো আর বিজ্ঞাপন দিয়ে ডাক হয় না। মৌখিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ডzমুরিয়ার ইউএনও ও মাটি বিক্রয় কমিটির সভাপতি শাহনাজ বেগম বলেন, এতে বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না।
