টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা কারবারি নুর হাফেজসহ নিহত ২

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১১ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, অস্ত্রসহ আটক আলোচিত দুই মাদক কারবারি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

পুলিশ বলছে, গতকাল শনিবার ভোররাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী গাজীপাড়ার পশ্চিমের পাহাড়ে এ ঘটনার পর ৯৫ হাজার ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মিয়ানমারের দিল মোহাম্মদের ছেলে শীর্ষ ইয়াবা কারবারি

মো. আমিন ওরফে নুর হাফেজ (৩২) ও হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার সাব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (২৭)। এ ঘটনায় আহত ৫ পুলিশ সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ভোররাতে র‌্যাব-৭-এর একটি দল ৮ লাখ ইয়াবা, ৬টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ইয়াবা কারবারি নুর হাফেজ ও মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করে। তাদের সঙ্গে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে সৈয়দ নুর (২৭) ও মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে সৈয়দ আলম ওরফে কালুকেও (৪৫) আটক করে র‌্যাব। একই দিন বিকেলে তাদের টেকনাফ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে র‌্যাব। ওসি বলেন, আটক ইয়াবা কারবারিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাহাড়ে আরও ইয়াবা মজুদের কথা স্বীকার করলে রাতে এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযানে যায়। তারা পাহাড়ে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ওত পেতে থাকা অন্য ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় ইয়াবা কারবারিদের গুলিতে এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই মিশকাত, সঞ্জীব  দত্ত, কনস্টেবল মহিউদ্দিন ও সেকান্দর আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৬টি এলজি, ১৮ রাউন্ড কার্তুজ, ১৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা, ৯৫ হাজার ইয়াবাসহ গুলিবিদ্ধ নুর হাফেজ ও সোহেলকে উদ্ধার করা হয়। তাদের প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ওসি প্রদীপ জানান, নুর হাফেজ শীর্ষ ইয়াবা কারবারি। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াবাজারের ফেরারি আসামি রাকিব আহমেদ মেম্বারের সঙ্গে চোরাচালানের সুবাদে মিয়ানমারের নুর হাফেজ ও তার ভাই মো. নুর বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। স্থানীয় রাজনীতির ‘বলির পাঁঠা’ হয়ে তারা কাছারপাড়ায় বসতি গড়েন। একপর্যায়ে রাকিব মেম্বারের সঙ্গে নুর হাফেজদের দূরত্ব সৃষ্টি হলে মিয়ানমারে ঘনিষ্ঠজন থাকায় তারা দুই ভাই সীমান্ত চোরাচালান ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে উগ্রপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত এবং বাংলাদেশি স্থানীয় রাজনীতিকদের ‘টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে’ এই সীমান্তে তারা হয়ে ওঠেন ‘মাফিয়া ডন’। অসহায় মানুষকে টাকা-পয়সা দিয়ে ‘দানবীর সাজার’ চেষ্টা চালালেও তারা দুই ভাই মূলত হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের ‘মাফিয়া জগৎ’ নিয়ন্ত্রণ করতেন। কেউ তাদের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে হয়রানির শিকার হতেন। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হলে প্রাণ রক্ষায় হ্নীলার গাজীপাড়ায় একজনকে বিয়ে করে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন নুর হাফেজ। তবে গোপন স্থানে থেকেই মাদক ও সোনা চোরাচালানের কারবার করতেন তারা দুই ভাই। সহযোগীসহ নুর হাফেজের অবর্তমানে হ্নীলা-হোয়াইক্যংয়ের মাদক সম্রাজ্য ভেঙে তছনছ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত