পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, সুদক্ষ এবং পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘ আমরা একটা পেশাদার এবং প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-২০১৯ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডবিস্নউসি কোর্স)-২০১৯ এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যই আমরা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নতুন নতুন অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে সেনানিবাসও গড়ে তুলেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবসময় এটা মনে করি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের মাঝেই এ চিন্তাটা থাকা উচিত। দেশমাতৃকার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারেই আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখানে এসেছেন।’
প্রায় ৮৫ জন সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রশাসন এবং বিদেশি সামরিক কর্মকর্তারা ‘এনডিসি কোস-২০১৯’ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ৩৮ জন কর্মকর্তা ‘এএফডবিস্নউসি কোর্স-২০১৯’-এ অংশগ্রহণ করেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা দেশের দুর্যোগকালীন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এদেশের জনগণের সেবা করাটা আমাদের সবারই দায়িত্ব। এই সাধারণ মানুষের অর্থেই তো আমাদের বেতন-ভাতা সবকিছু। কাজেই তাদের জীবনযাত্রাটা সুন্দর করাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য স্থির করেছি ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করব। ২০২১ সালে স্বাধীনতার জয়ন্তীতে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার পাশাপাশি ১০ বছর এবং ২০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন এবং আগামী প্রজন্মকে সুন্দর জীবন দেওয়ার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এনডিসি ও ডিএসসিএসি-এর পরিচালনা পর্ষদের যৌথ সভাতেও যোগদান করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিনবাহিনী প্রধান, মুখ্য সচিব, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অধ্যাপক, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
