এ প্রজন্মের সুকণ্ঠী গায়িকা নিশীতা বড়–য়া। এখন টানা ব্যস্ততা স্টেজ শো নিয়ে। তার মাঝে চলছে স্টুডিওতে রেকর্ডিং। গতকাল বিজয় দিবসে নতুন গান প্রকাশ করেছেন। এসব নিয়েই তার সঙ্গে কথা হলো
বিজয় দিবসের গান...
দেশমাতাকে আমার প্রণাম জানাতে গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি দেশের গান প্রকাশ করেছি। আমার দেশের মাটি আমার কাছে চন্দনের চেয়েও অধিক পবিত্র। যেখানে যেভাবেই থাকি না কেন, দেশের কথা যেন আমরা না ভুলি। মন থেকে সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হোক একটাই নাম, বাংলাদেশ। যেভাবেই থাকি না কেন দেশকে যেন না ভুলি। এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই গানটি করা। গানের শিরোনাম ‘ভুলব না’। এটি ভক্তদের জন্য আমার পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। গানটির কথা ও সুর করেছেন ফয়সাল মাহমুদ। সংগীত পরিচালনা করেছেন মীর মাসুম। এটি স্বল্প আয়োজনের মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ হয়েছে ইউটিউবে। আশা করি গানটি সবার ভালো লাগবে।
বছর শেষে সিনেমার গানে...
বছর শেষে নতুন একটি সিনেমার গানের জন্য কণ্ঠ দিলাম। অবশ্য বছর শেষ হতে আরও কটা দিন বাকি। এরমধ্যে আরও সিনেমার গান গাওয়াও হতে পারে। ‘কপাল পোড়া’ শিরোনামের এ গানটি থাকবে ‘সোনার চর’ সিনেমায়। ধন্যবাদ সংগীত পরিচালক আবিদ রনি ও সিনেমার পরিচালক জাহিদ হোসেনকে, আমাকে ‘সোনার চর’ সিনেমার একটি অংশ করে নেওয়ার জন্য। আবারও শ্রদ্ধেয় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গান করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করছি।
ব্যস্ততা...
এখন তো স্টেজ শোর সিজন। প্রতিদিন এক বা একাধিক স্টেজ শো করছি। ঢাকার বাইরে হলে একটি শো করতে হয়। আর ঢাকার মধ্যে হলে দুটি করা যায়। এ মাসের সব কটা দিনই স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত। এরমধ্যেও স্টুডিওতে রেকর্ডিং করতে হচ্ছে। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য কিছু কাজ গুছিয়ে নিচ্ছি। সামনেই এক এক করে প্রকাশ করব গানগুলো। এ নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। ভক্তদের জন্য সুখবর। আবারও ‘সিলন মিউজিক লাউঞ্জ’ শুরু হয়েছে। এখানেও আমার গান থাকবে। তবে কোন গান গেয়েছি তা এখনই বলব না। প্রকাশের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
শোক...
এন্ড্রু কিশোর আমার খুব প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিল্পী। তিনি অসুস্থ, অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। কিন্তু এই গুণী শিল্পী দেশকে কত কিছু দিয়েছেন। তার যদি এই অবস্থা হয় শেষ বয়সে, তাহলে আমাদের কী হবে- এসব ভেবে খুব মন খারাপ হয়। সম্প্রতি সহকর্মী সংগীত পরিচালক পৃথ্বিরাজকে হারিয়েছি। তার জন্য খুব কান্না পাচ্ছে। তিনি আমার গান খুব পছন্দ করতেন। চেয়েছিলেন একটা গান অন্তত একসঙ্গে করি। মৃত্যুর আগে কতবার দেখা করতে বলেছিলেন, কিন্তু পারিনি। নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না মনে হয় জীবনে। তিনি স্ট্রেস নিতে না পেরে হার্ট অ্যাটাকে চলে গেলেন। এই স্ট্রেস হয়তো একদিন আমাকেও নিয়ে যাবে আমি দুঃখিত পৃথ্বি দা। তোমার সঙ্গে কাজ করার লোভ আমারও ছিল অনেক। অনিয়মে চলাফেরার কারণে আমি কাজ করতে পারলাম না, আর তুমি চলেও গেলে। অবশ্যই পরজন্মে আমাদের দেখা হবে।
