সচিবালয়ের চারপাশের এলাকায় আজ থেকে কেউ হর্ন বাজালে গুনতে হবে জেল-জরিমানা। ‘নীরব এলাকা’ কার্যকর করতে যানবাহনে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই এলাকায়।
কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করলে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় চলাচলকারী কোনো যানবাহন হর্ন বাজাতে পারবে না। বাজালে পেতে হবে শাস্তি।
নীরব এলাকা কার্যকর করতে গত ৮ ডিসেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভা হয়।
সেখানে জানানো হয়, ১৭ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নীরব জোন এলাকা হিসেবে কার্যকর করা হবে। অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোসহ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী, ‘নীরব জোন’ বলতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই জাতীয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং এর চারদিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়। বিধিমালা অনুযায়ী, কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করে নীরব এলাকায় যানবাহনের হর্ন বাজালে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পরবর্তী অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এর আগে ২৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয়ের এক সভায় সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে নীরব জোন হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
