জুতার জন্য ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা কিশোরের

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৭:৪৭ পিএম

একজোড়া চাকাওয়ালা জুতার জন্য বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছে দুই কিশোর। ভারতের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে হত্যার পরিকল্পনা সাজায় বলে জানায় তারা।

জানা গেছে, নির্মম মারধরের শিকার কিশোর তার সহপাঠীর কাছে বাকিতে বিক্রি করে একজোড়া চাকাওয়ালা জুতা। এপর সে টাকার জন্য বারবার চাপ দিতে থাকে বন্ধুকে। তবে বন্ধুটি টাকা না দিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা সবাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। 

পরিকল্পনানুযায়ী দুই কিশোর একটি আখক্ষেতে নিয়ে লোমহর্ষকভাবে হত্যার চেষ্টা করে তাদের বন্ধুকে। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৩ ঘণ্টা পরও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ওই কিশোর।

পাবনার ঈশ্বরদীতে এ ঘটনা ঘটে রোববার। আহত কিশোরটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা বুধবার জানান।

ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অসিত কুমার বসাক গণমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী কিশোর কিছুদিন আগে তার একজোড়া চাকাযুক্ত জুতা দুই হাজার ৫ শ টাকায় সহপাঠীর কাছে বিক্রি করে। পুরো টাকা বাকি থাকায় সে বারবার টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল। টাকা না দিতে তার সহপাঠীরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি জানান, ভারতীয় চ্যানেল সনি সিক্স চ্যানেলে ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে তাকে পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার ‍দুপুরে আখ খাওয়ার কথা বলে তারা তাকে গ্রামের একটি আখক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে রড দিয়ে আরাফাতের মাথায় আঘাত করে। উপর্যুপরি আঘাতে তার মাথার মগজ বেরিয়ে যায় এবং কান কেটে যায়।

তিনি আরো জানান, ঘটনার অনুসন্ধানে তারা অভিযুক্ত শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনায় ব্যবহৃত রড হামলাকারী দুই কিশোর একটি পুকুরে ফেলে দেয়।

পুলিশ জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আখক্ষেত থেকে আহত কিশোরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার মাথায় গুরুতর জখম ছিল। প্রথমে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

আহত কিশোরের বাবা বলেন, রোববার দুপুরের পর থেকে ছেলের খোঁজ পাচ্ছিলেন না তারা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি থানায় অভিযোগ করেন। তার ছেলে প্রতিদিন অভিযুক্তদের সঙ্গে খেলা করত। তাই প্রথমেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, ওই কিশোরের মাথায় অনেকগুলো সেলাই দেওয়া হয়েছে। উপর্যপুরি আঘাতে মাথার মগজ বেরিয়ে এসেছে। জ্ঞান ফোরার পর ঠিকভাবে কথা বলতে পারছে না। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া লাগতে পারে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত