শীেত খুশকির সমস্যা বাড়ে। খুশকি কমাতে করণীয় জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ খালেদা পারভীন সিনথিয়া
চুল ঠিকমতো না আঁচড়ালে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক হয় না। এতে স্ক্যাল্পের নতুন কোষ তৈরি ব্যাহত হয়। ফলে স্ক্যাল্পের ত্বকে মৃত কোষ জমতে থাকে। স্ক্যাল্প যদি কোনো কারণে খুব শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে খুশকির সমস্যা বেশি হয়। শুষ্ক আবহাওয়া, বারবার তাপমাত্রার পরিবর্তন ইত্যাদিও খুশকি তৈরির জন্য দায়ী। অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার স্ক্যাল্পের ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্প ইরিটেটেড হয় এবং এর থেকে খুশকি হয়। আবার শ্যাম্পু কম করা হলে স্ক্যাল্পের ক্ষতি। এ ক্ষেত্রে ময়লা, তেল, মৃত কোষ স্ক্যাল্পে জমতে থাকে। অপরিষ্কার স্ক্যাল্পে খুশকির সমস্যা বেড়ে যায়। খাবারে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি, জিংক, কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাট না থাকে, তাহলেও খুশকির সমস্যা হতে পারে।
প্রতিকার
শ্যাম্পু বদলালেই অনেক সময় খুশকির সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়। যাদের সমস্যা খুব বেশি, তাদের ক্ষেত্রে শুধু শ্যাম্পু বদলালেই চলবে না। সঙ্গে চাই বাড়তি পরিচর্যা। শ্যাম্পু কেনার সময় উপাদানের দিকে বিশেষ নজর দিন। জিংক পাইরিথন, সেলেনিয়াম সালফাইড, কোল টার, কিটোকোনাজোল, স্যালিসাইলিক এসিড, টি-ট্রি অয়েল ইত্যাদিযুক্ত শ্যাম্পু খুশকি দূর করতে পারে। সপ্তাহে তিন-চার দিন শ্যাম্পু করলেই হবে। আজকাল বিভিন্ন পারলারে খুশকি দুর করার সেবা পাওয়া যায়। সেগুলো করতে পারেন। এ ছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মেডিকেটেড শ্যাম্পুও ব্যবহার করা যায়।
ঘরোয়া যত্ন
n আধা কাপ হালকা গরম পানিতে আধা কাপ অ্যাপল সিডর ভিনেগার বা সাধারণ ভিনেগার মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ হালকা হাতে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন। এরপর ভালো করে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করবেন না।
n এক বাটি পানি দুই চা চামচ মেথি মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে সেটা মিক্সারে পেস্ট করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
n বেশ কয়েকটা নিমপাতা চার-পাঁচ গ্লাস পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেঁকে তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। চাইলে পাতা সমেত পানি নিয়ে পেস্ট করে মাস্কের মতো স্ক্যাল্পে লাগিয়েও রাখতে পারেন। এক ঘণ্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
n তিন টেবিল-চামচ লবণ শুকনো অথবা সামান্য ভিজে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ঘষে নিন। দুই থেকে তিন মিনিট রেখে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন।
n দুই টেবিল চামচ লেবুর রস ভালো করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে এক মিনিট রেখে দিন। আলাদা বাটিতে এক চা-চামচ লেবুর রস এক কাপ পানিতে মিশিয়ে নিন এবং তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। বেশ কয়েক দিন এভাবে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
n চুল ধোয়ার ১৫ মিনিট আগে স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
n গোসল করার আগে স্ক্যাল্পে নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। নারকেল তেল ড্যানড্রফ তাড়াতে খুব উপকারী।
n রসুন থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
n অলিভ অয়েলও ড্যানড্রফ তাড়াতে ভালো কাজ করে। ৮-১০ ফোঁটা তেল নিয়ে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। শাওয়ার ক্যাপ পরে সারা রাত থাকুন। সকালে শ্যাম্পু করে নিন।যাদের ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে এ ধরনের সমস্যা হয়, তাদের জন্যও রইল কিছু ঘরোয়া সমাধান।
n অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট ভালো করে গুঁড়ো করে শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। দুই মিনিট রেখে ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
n বেকিং সোডা স্ক্রাব বা ফাঙ্গিসাইড হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। বাড়িতে পুরনো শ্যাম্পুর বোতলে ভরেও ঝাঁকিয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পুর পরিবর্তে কয়েক দিন এটা ব্যবহার করুন।
যদি মনে হয় চুল খুব শুষ্ক লাগছে বা শ্যাম্পু না করলে হবে না। তবে শ্যাম্পুর মধ্যেই এক চা-চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
