বেসরকারি নির্মাণ খাতেও ইটের ব্যবহার বন্ধ দাবি টিআইবির

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:১৮ এএম

সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি বেসরকারি প্রকল্পেও পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার টিআইবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে উঠে আসে রাজধানী ঢাকার নাম। ঢাকায় বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রাজধানীর উপকণ্ঠ ঘিরে গড়া ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়াকে দায়ী করেন পরিবেশবিদরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত ২৬ নভেম্বর ঢাকাসহ আশপাশের পাঁচ জেলায় গড়ে ওঠা সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রকল্পে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার আংশিক বাধ্যতামূলক এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে তা ১০০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে বায়ুদূষণ যে মাত্রায় পৌঁছেছে তা থেকে দেশের পরিবেশ ও নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদানে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের এ সিদ্ধান্ত উৎসাহব্যঞ্জক। তবে এর সুফল কতটুকু পাওয়া যাবে তা নির্ভর করে এই সিদ্ধান্তের কার্যকর প্রয়োগের ওপর।

তিনি আরও বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে ভাটায় পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমবে মাত্র ৩০ শতাংশ। যার মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে অর্জিত হবে না। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার আইন করে বাধ্যতামূলক করা না হলে এবং ভাটায় পোড়ানো ইটের তুলনায় পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবহারে প্রণোদনা প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় সরকারি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ফল প্রদান না-ও করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বায়ুদূষণের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান পরিবেশ বিপর্যয় ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি মোকাবিলায় তাই সরকারি-বেসরকারি সব নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারকে অনতিবিলম্বে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে চুল্লিভিত্তিক সব ইটভাটা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত, কার্যকর ও প্রণোদনামূলক নিয়ন্ত্রণকাঠামো প্রণয়নের জোর দাবি জানাচ্ছে টিআইবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত