বায়ু দূষণে দেশে বছরে লাখের বেশি মৃত্যু

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭ পিএম

বায়ু দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। প্রায় সমান সংখ্যক মানুষ বায়ুদূষণের কারণে নানারকম শারীরিক ও মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক আয়োজিত ‘নগরের প্রবীণ এবং শিশুদের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব রোধে করণীয়’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে এ তথ্য জানানো হয়।

সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ এফেক্টস ইনস্টিটিউটের বরাত দিয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, বায়ু দূষণের কারণে দেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষ মারা যায়। একই সংখ্যক মানুষকে সারা বছর ধরে ভুগতে হয় ফুসফুসসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন জটিল রোগে। উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণের কারণে শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তাহীন শিশুর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে সংলাপে জানানো হয়, গত ৬ বছরে (২০১৩-২০১৮) বায়ু দূষক গুলির মধ্যে বিশেষ করে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ তুলনামূলক বেড়ে চলেছে। শীতকালে বায়ু দূষণের মাত্রা জাতীয় আদর্শ বায়ুমানের ১১.৮০ গুণ বেশি ছিল এবং বর্ষাকালে আদর্শ বায়ুমানের প্রায় ২ গুণ বেশি ছিল। বর্ষাকালে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাকৃতিক ভাবেই বায়ুদূষণ বছরের অন্যান্য সময় থেকে কম থাকে।

গবেষণায় দেখা যায়, গত ১৩ মাসে ঢাকার মানুষ মাত্র ৯ দিন (২ শতাংশ) ভালো বায়ু সেবন করেছে এবং ১৮৮ দিন (৪৮ শতাংশ) মধ্যম থেকে সতর্কতামূলক দূষিত বায়ু সেবন করেছে, ১০৭ দিন (২৮ শতাংশ) অস্বাস্থ্যকর বায়ু, ৮২ দিন (২১ শতাংশ) খুবই অস্বাস্থ্যকর বায়ু এবং ৫ দিন (১ শতাংশ) মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর বায়ু সেবন করেছে। ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের পরিমাণ ২০১৮ সাল হতে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে শিশু মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে পৌঁছে গেছে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রতিবছর পৃথিবীর বসবাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকা প্রকাশ করে থাকে এবং দুর্ভাগ্যবশত গত তিন বছরে ঢাকা পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এই ছয় বছরের ঢাকা শহরের বায়ুর মান পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, এই সময়ে ঢাকার বায়ু সব সময় আদর্শ বায়ুমান এর চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ বেশি খারাপ ছিল। বায়ুমান খারাপ করার জন্য মূলত অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা দায়ী, যার আকার ২.৫ মাইক্রন। এই অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা আমার খালি চোখে দেখতে পাই না, এটি এত ক্ষুদ্র যে আমাদের মাথার চুলের তুলনায় এটি ২০ থেকে ৩০ গুণ ছোট। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুজ্জামান মজুমদার, পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বানিপার সভাপতি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত