ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাসের প্রতিবাদে স্বর্ণপদক নিতে অস্বীকৃতি জানালো এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী।
গালফ নিউজ জানায়, সোমবার পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ।
এ সময় মিলনায়তন থেকে বের করে দেয়া হয় গণযোগাযোগ বিভাগে তার ব্যাচের প্রথম স্থান অধিকারী ছাত্রী রাবিহা আব্দুরেহিমকে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন চ্যানেলকে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যখন সেখানে আসলেন তারা আমাকে বাইরে চলে যেতে বলল। আমি জানি না, তারা কেন এমন আচরণ করল। সম্ভবত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় আমাকে তারা বের করে দিয়েছিল।’
পরবর্তীতে তাকে পদক ও সার্টিফিকেট গ্রহণের জন্য ডাকা হলেও তিনি পদক নিতে অস্বীকৃতি জানান, শুধু সার্টিফিকেট গ্রহণ করে বেরিয়ে আসেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাবিহা বলেন, ‘মাস্টার্সের সার্টিফিকেট এবং স্বর্ণপদক গ্রহণের এই মুহূর্তটির স্বপ্ন দেখতাম আমি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে এসে আমার স্বপ্নভঙ্গ হবে আমি ভাবতেই পারিনি। মিলনায়তনে পদকপ্রাপ্ত শতাধিক শিক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু আমাকে বের করে দেয়া হলো। প্রেসিডেন্ট চলে যাওয়ার পর আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হলো।’
রাবিহা বলেন, ‘এই স্বর্ণপদক গ্রহণ না করে আমি একজন নারী, একজন শিক্ষার্থী এবং সর্বোপরি একজন ভারতীয় হিসেবে নাগরিকত্ব বিরোধী বিক্ষোভকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী এবং মানুষের প্রতি সংহতি জানালাম।’

তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বের তরুণদের কাছে আমি এই বার্তা দিতে চাই যে, স্বর্ণপদক বা সার্টিফিকেটের জন্য শিক্ষা নয়। শিক্ষা মানে হচ্ছে শান্তি ও ঐক্য। এটি অবিচার, ফ্যাসিজম ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে বলে।
এদিকে ভারতীয় অনেক সংবাদমাধ্যম প্রচার করে, স্কার্ফ পরিহিত থাকায় রাবিহাকে মিলনায়তন থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে এই ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে কেউ স্কার্ফ খুলতে বলেনি। কেন বের করে দেয়া হয় সেটিও কেউ বলেনি।’
একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাবর্তনে প্রেসিডেন্টকে অতিথি করায় অনুষ্ঠান বর্জন করে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত ও পিএইচডি গবেষক দুই শিক্ষার্থী। কার্তিকা বি কুরুপ এবং এ এস অরুন কুমার নামে ওই দুই শিক্ষার্থী জানান, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
