‘শাকিল রাজনীতি করেছে ছাত্রজীবন থেকে। সে রাজনীতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নয়। এখন রাজনীতি কলুষিত হয়েছে, কিন্তু এই কলুষিত রাজনীতি শাকিলকে স্পর্শ করেনি।’
কবি ও রাজনীতিবিদ মাহবুবুল হক শাকিলের ৫১তম জন্মোৎসবের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাহবুবুল হক শাকিল সংসদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘সাহিত্য ড়্গেত্রে শাকিলের অনেক কিছুই দেওয়ার ছিল। কিন্তু ট্র¨াজেডি যে, শাকিল চলে গেছে। মানুষের জন্য কিছু করতে পারার মধ্যেই শাকিলের আনন্দ ছিল। এভাবেই সে মানুষ হিসেবে অনন্য সাধারণ হয়ে উঠেছিল।’
মাহবুবুল হক শাকিল সংসদের সভাপতি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শাকিলের বাবা, ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের সভাপতি জহিরুল হক, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, ওসমান গণি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান জয় প্রমুখ।
শাকিলের বাবা জহিরুল হক বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান আমার মধ্যে মিশ্র অনুভূতি তৈরি করেছে। শাকিলের জন্মদিনকে ঘিরে এই আয়োজন। শাকিল আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু অল্প সময়ে শাকিল তার কবিতা, সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে তার স্মৃতি রেখে গেছে। নদী শুকিয়ে গেলেও যেমন রেখা থেকে যায়, শাকিলও তেমন সাহিত্য অঙ্গনে তার স্মৃতি রেখে গেছে।’
অনুষ্ঠানে ‘মাহবুবুল হক শাকিল পুরস্কার ২০১৯’ প্রদান করা হয়। এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন তরুণ কবি মন্দিরা এষ। পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে মন্দিরা এষ বলেন, ‘এই পুরস্কার পাব কখনো ভাবিনি। আমার ছোট বোন বিজ্ঞপ্তি দেখে, বইগুলো জমা দিয়েছিল। তবে কবিতা প্রসঙ্গ নিয়ে যাদের সঙ্গেই বিভিন্ন সময় আমার কথা হয়েছে। তাদের কাছে শুনেছি মাহবুবুল হক শাকিলের নাম। পরে তার বেশকিছু কবিতাও পড়েছি। তার নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কার পেয়ে আমি গর্বিত।’
