হাসপাতালে শিশু ও বৃদ্ধদের ভিড়

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০১ এএম

পৌষের প্রথম সপ্তাহ যেতে না যেতেই গ্রামাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোয় শীতজনিত কারণে শিশু-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর ভিড়। বিশেষ করে শিশু-বৃদ্ধরা জ¦র, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এছাড়া হাড় কাঁপানো শীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

জামালপুর : উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়, উত্তর-পশ্চিমে যমুনা আর জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের প্রভাবে জামালপুরে এমনিতেই শীতের প্রকোপ বেশি। তার ওপর গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জনজীবন। শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে চরাঞ্চলের নদীভাঙা ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

জেলার সাতটি উপজেলার নদীতীরের গ্রামগুলো ভোর থেকে দিনমান ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে। শীতের তীব্রতায় জবুথবু হয়ে পড়েছে নদীতীরের চরাঞ্চলের মানুষের জনজীবন। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে শিশু রোগীর সংখ্যা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, সবচেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা।

দিনাজপুর : গত কয়েক দিনে শীতজনিত কারণে শিশু-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। দিনাজপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শীতজনিত কারণে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় সর্দি, জ¦র, কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৯৮ জন। পুরো জেলায় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৬ জন, অন্যান্য শীতজনিত কারণে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৫০ জন। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে ৫১ জনের বেশি রোগী। এসব রোগীর মধ্যে অর্ধেকই শিশু বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর সিভিল সার্জন।

ঠাকুরগাঁও : গত দুদিনে শীতের তীব্রতা কমলেও তেমন কমেনি শীতজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য রোগীর সংখ্যা। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ খাওয়ার স্যালাইন ছাড়া অন্য সব ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঠাকুরগাঁও হাসপাতালটি ভুগছে কলেরা স্যালাইনের সংকটে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ৪০ থেকে ৫০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে এ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয় ৫৫০ শিশু। গতকাল ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে ৭০ জন শিশু।

শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগম বলেন, হাসপাতালে কলেরা স্যালাইনের সংকট প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে। এতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাকিবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ওষুধের তেমন সংকট নেই। কলেরা স্যালাইন কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

মৌলভীবাজার : সবুজ বন ও পাহাড়-হাওরবেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। গত কয়েক দিনের শীতে ভোগান্তি বেড়েছে চা শ্রমিকসহ ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের। খড়-খুটো  জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা তবে বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা সেভাবে বৃদ্ধি না পেলেও বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা। গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা অনেকটাই ওঠানামা করেছে ১১ ডিগ্রির আশপাশে এবং গতকাল মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসে সূত্রে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর এ বছর মৌলভীবাজারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেদিন থেকে জেঁকে বসে শীত যা এখনো অব্যাহত আছে।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এমএম হক বলেন, ঠাণ্ডাজনিত জ¦র, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা।

চাঁদপুর : শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু জ¦র, নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়, গত ১০ দিনে  ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সহস্রাধিক রোগী। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত