মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সাংসদের বাদানুবাদ অব্যাহত রয়েছে। সুষ্ঠু বিচারের জন্য ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের শুনানিতে সাক্ষী হাজিরের দাবি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে বেশিরভাগ রিপাবলিকান সদস্য এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছেন। তবে রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল বলেছেন, অভিশংসন শুনানিতে সাক্ষী হাজিরের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেছেন, ইউক্রেনের ঘটনার পর সব বিষয়ে খোলাখুলি আলাপ জরুরি। এজন্য ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানার অধিকার সবার আছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিশংসিত করে। বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটি শেষে আগামী মাস থেকে সিনেটের বিচার শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। দরকষাকষির অংশ হিসেবে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ সামরিক সহায়তাও প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন বলে ভাষ্য তাদের।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অপর একটি দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছেন– এ অভিযোগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত শুরু হয়। পরে নিম্নকক্ষের ভোটে তিনি অভিযুক্তও হন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ডেমোক্র্যাটরা এখন তাদের চাহিদা অনুযায়ী ইউক্রেন বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোয়াইট হাউজের সাবেক-বর্তমান চার কর্মকর্তাকে সিনেট শুনানিতে হাজিরের প্রতিশ্রুতি চাইছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানিতে সাক্ষী হাজিরের সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। তিনি জানিয়েছেন, অভিশংসনের যে অভিযোগগুলো নিয়ে নিম্নকক্ষে ভোট হয়েছে, তার নথি এখনো সিনেটের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আর রিপাবলিকানরা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়াকে উড়িয়েও দেয়নি। তার অভিযোগ, নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সিনেটের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ‘অযৌক্তিক অবস্থান’ নিয়েছেন। তিনি পেলোসি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, কীভাবে বিচার হবে তিনি তা আমাদের শেখাতে চেষ্টা করছেন। আমি এ বিচার নিয়ে মোটেও বিচলিত নই; যদি তিনি কাগজপত্র আটকে রাখতে চান, রাখুন। দেখুন, আমরা একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছি। নিম্নকক্ষের স্পিকার আমাদের কাছে নথি না পাঠানো পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারছি না। এজন্য সবাই ছুটি উপভোগ করছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই তৃতীয় প্রেসিডেন্ট, যিনি নিমœকক্ষে অভিশংসিত হয়েছেন। যদিও উচ্চকক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায়, তাকে হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হবে না বলেই অনুমান বিশেস্নষকদের।
