ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা চলতি বছর বেশ বেড়েছে। বছরের প্রথম ১০ মাসে জমা পড়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ আবেদন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়ে কেবল অক্টোবর মাসেই আবেদন করেছে ৭০ হাজার ৩৭০ জন।
শেঙ্গেন ভিসা ইনফো ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের তুলনায় এই হার বেড়েছে ১১ শতাংশ। ২০১৬ সালের পরে গত তিন বছরে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আবেদনের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। শেঙ্গেন ভিসা ইনফো বলছে, আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ভেনেজুয়ালার নাগরিকদের থেকে। মোট আবেদনের এক-চতুর্থাংশই করেছেন ওই তিন দেশের নাগরিকরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের পর থেকে কোনো বছরই ওই তিন দেশের নাগরিকরা গড়ে সাত হাজারের কম আবেদন করেননি। ইউরোপিয়ান অ্যাসাইলাম সাপোর্টার অফিসের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর মাসে উল্লিখিত তিন দেশ ছাড়াও কলম্বিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, আলবেনিয়া, ইরান ও নাইজেরিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে।
অক্টোবরে সবেচেয়ে বেশি আবেদন করেছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা। বছরের শুরুর মাসের তুলনায় দশম মাসে তাদের আবেদন বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে আফগানিস্তানের নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে ২৬ শতাংশের বেশি। তবে সিরিয়া থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমেছে বেশ। উল্লিখিত সময়ে দেশটি থেকে ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমেছে ৯ শতাংশের বেশি।
এই সময়ে কলম্বিয়ার নাগরিকদের আবেদনের হারও ২০১৮ সালের তুলনায় বেড়েছে কমপক্ষে তিন গুণ। পাকিস্তানের নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যাও বেড়েছে সমান হারে। বেড়েছে তুরস্ক ও আলবেনিয়ার নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যাও।
এদিকে ইউরোপিয়ান অ্যাসাইলাম সাপোর্টার অফিস বলছে, এ বছরের আবেদনকারীর মধ্যে কমপক্ষে ১০ শতাংশ আগেও আবেদন করেছিল। একাধিকবার আবেদন করা নাগরিকদের বেশির ভাগই বলকান রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা। এদের মধ্যে বসনিয়া থেকে আসা প্রতি পাঁচজনের তিনজনই একাধিক আবেদন করেছেন। বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেড়েছে। সার্বিয়ার নাগরিকদের আবেদন বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। কসোভোর নাগরিকরা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি আবেদন করেছেন। উত্তর মেসেডোনিয়ার নাগরিকরাও ২৪ শতাংশ বেশি আবেদন করেছেন আলোচ্য সময়ে।
