বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণে ধুলার রাজত্ব

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫৩ এএম

জোরেশোরে চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার প্রস্তুতি। এরই অংশ হিসেবে মেলা মাঠের সড়ক উন্নয়ন ও স্টল নির্মাণের বালু বাতাসে উড়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্টল নির্মাণে নিজ উদ্যোগে পানি ছিটানোর নির্দেশনা থাকলেও, তা মানা হচ্ছে না। দূষণরোধে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোও (ইপিবি) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইপিবির সহকারী পরিচালক (অর্থ) আবদুর রউফ বলছেন, ‘পানি ছিটানোর দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। পরিবেশ দূষণরোধের কাজ আমাদের নয়। আমাদের অন্য কাজ আছে।’ তবে পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার দায়িত্ব ইপিবির জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘শুরুতে কিছু ত্রুটি থাকে। আয়োজন সুন্দর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’

সরেজমিন আগারগাঁওয়ের বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলার সামনের রাস্তার বাম পাশে ইট ও বালু দিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা করা হয়েছে। যানবাহনের বাতাসে এ বালু উড়ে চলাচলকারীদের চোখেমুখে যাচ্ছে। মেলা মাঠের বেশিরভাগ রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। যেগুলো হয়েছে, তাতেও জমে রয়েছে বালু। স্টলের মেঝেতেও বালু বিছানো। যত্রতত্র বালুর স্তূপ থেকে তা বাতাসে ছড়াচ্ছে। হঠাৎ বালুর ধাক্কা সামলাতে লোকজন কোনো কিছুর আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করছেন। অনেকে হাতে নাক-মুখ চেপে চোখ বন্ধ করে পথ চলছেন। দায়িত্ব থাকলেও, ইপিবির পক্ষ থেকে পানি ছিটানো হয় না। নিজ উদ্যোগে পানি ছিটানো হলেও, তা যৎসামান্য। নাবিস্কো স্টলের সুমন দাস জানান, কাজ করার চেয়ে বালুতে তাদের বেশি কষ্ট হয়। উড়ে নাকমুখে ঢোকে। হাঁচি হয়। এরপরও কাজ করতে হয়। প্রতি বছর করায় গা সয়া হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ইপিবির উপপরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ আবদুর রউফের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কেন পরিষ্কার করছেন না, কেন পানি ছিটাচ্ছেন না? সাংবাদিক হিসেবে আপনার কি কোনো দায়িত্ব নেই? আপনারা একে কেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা বলেন? এটি দেশের সবচেয়ে বড় মেলা। মাত্র কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরকার মতো পানি ছিটাচ্ছি। এরপরও বালু উড়লে আমাদের কিছু করার নেই।’ ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত মেলায় ১১টি বিভাগে ৪৫০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দেশের ৫৫টি বিদেশি স্টল রয়েছে। এখনো কিছু স্টল বরাদ্দ দেওয়া বাকি রয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই বরাদ্দ সম্পন্ন হবে।

প্রতি বছরের মতো এবারও পানির ফোয়ারা, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক, দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চ, তথ্যকেন্দ্র, টিকিট কাউন্টার, ট্রাফিক কাউন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, মসজিদ, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, দুই ফটকবিশিষ্ট ভিআইপি গেট, পাবলিক টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা থাকছে। বিভিন্ন গাছ দিয়ে সাজানো হবে মেলা মাঠ। ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে থাকবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একাধিক টিম। নিরাপত্তা টাওয়ার, মেটাল ডিটেক্টর, সিসি ক্যামেরাসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও অনুসন্ধান ও নিরাপত্তা ডেস্ক থাকছে।

স্টিল বিল্ডিং ঠিকাদার কোম্পানির বাণিজ্যমেলার দায়িত্বে থাকা রেজাউল করিম জানান, ১ ডিসেম্বর থেকে তাদের স্টল নির্মাণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে নয়টির কাজ শেষ হয়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই বাকিগুলোর কাজ শেষ হবে। এরপর সাজসজ্জা করা হবে। প্রাণ-আরএফএলের সিকিউরিটি স্টাফ মুক্তার জানান, তাদের নয়টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে।

এবার মেলার প্রধান ফটক নির্মাণ করা হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও পদ্মা সেতুর কাঠামোয়। স্বাধীনতার স্মৃতি ও সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার জন্যই এমন কাঠামো করা হচ্ছে বলে জানান ইপিবির কর্মকর্তারা। এছাড়া আগামী বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী হওয়ায় বঙ্গবন্ধু স্টলে বিশেষ নান্দনিকতা থাকবে। বাড়ানো হবে সাজসজ্জা। ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিওর মাধ্যমে মেলা দর্শকদের সরাসরি উপভোগের ব্যবস্থা থাকবে।

সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলার আয়োজনে শুরুতে কিছুটা ঘাটতি থাকে। এবার ইপিবিকে উদ্বোধনের আগেই সব স্টল ও অভ্যন্তরীণ কাঠামোর কাজ শেষের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ দূষণরোধেও তাদের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বালু ওড়া কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এবার যেকোনো বছরের চেয়ে মেলা হবে গোছানো।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত