মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের পর এবার হরিয়ানায় অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জন্য।
রাজ্যটিতে জোটসঙ্গী জেজেপিতে বড় ধরনের ভাঙনে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ক্ষমতাসীনদের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, হরিয়ানায় জননায়ক জনতা পার্টির (জেজেপি) সমর্থনে সরকার গঠন করে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের ক্ষমতায় টিকে থাকা নির্ভর করছে জেজেপির ওপর। দলটির বিধায়কদের সমর্থন হারালে রাজ্যটিও হারাতে হবে ক্ষমতাসীনদের।
বুধবার দুষ্মন্ত চৌটালার দল জেজেপি ছেড়ে চলে যান দলটির বর্ষীয়ান নেতা ও বিধায়ক রাম কুমার গৌতম। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কারও কথা শুনছে না বলে তার অভিযোগ। সেইসঙ্গে বিধায়কদের উপযুক্ত সম্মানও দেওয়া হচ্ছে না।
গৌতমের দাবি, সব বিধায়কই দলের ওপর অসন্তুষ্ট। একে একে তাদের অনেকেই দল ছাড়বেন বলে তিনি জানান।
৭৩ বছর বয়সী গৌতম দলটির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি ছিলেন। দলের একাধিক বিধায়ক তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফলে দলের ভেতরে তার ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
হরিয়ানায় বিজেপির সঙ্গে জোট করার শুরু থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন গৌতম। ক্ষোভ আরও বাড়ে তাকে মন্ত্রিত্ব না দেওয়ায়।
এই নেতার অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে জোটের শর্ত হিসেবে ১১টি মন্ত্রিত্ব পেয়েছে জেজেপি। সব মন্ত্রিত্বই নিজের পরিবারের হাতে রেখে দিয়েছেন দুষ্মন্ত।
বিক্ষুব্ধ ওই বিধায়কের দাবি, দলের সব বিধায়কই বিজেপির সঙ্গে জোট করায় অসন্তুষ্ট। কয়েকজন মন্ত্রিত্ব না পেয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বিজেপির সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, দুষ্মন্ত একবারও তাদের পরামর্শ নেননি বলেও দাবি গৌতমের।
বর্ষীয়ান এই বিধায়ক দল ছাড়ায় জেজেপি শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। এর মধ্যে কয়েকজন বিধায়ককে কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভুপিন্দর সিং হুডার ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। গৌতম দল ছাড়ায় তারাও সরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
