আসন্ন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাড়াটিয়াদের কথা মাথায় রেখে ইশতেহার ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে আসন্ন নতুন বছর থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বাড়িভাড়া ও দোকান ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি করেছে ভাড়াটিয়া পরিষদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানায় ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি।
মানববন্ধন থেকে দাবি জানানো হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাড়াটিয়াদের কথা মাথায় রেখে ইশতেহার ঘোষণা করতে হবে। বাড়িভাড়াসহ ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এতে উল্লেখ করতে হবে। তা না হলে ভোট বর্জনের হুমকি দেন তারা।
ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, ‘বছরের প্রথম মাস এলেই বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়া বৃদ্ধির একটি অলিখিত নিয়ম চালু করেছে। ইতিমধ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ ভাড়াটিয়াদের কাছে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের বেতন বাড়ে নাই। অনেক জায়গায় বছরে একাধিকবার ভাড়া বাড়ানো হয়। এই নির্মম অত্যাচার সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কারণ নিজেদের কর্মস্থল ও বাচ্চাদের স্কুল-কলেজের জন্য আমরা বেশি ভাড়াতেও থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’
ভাড়াটিয়াদের জিম্মি করে বাড়িওয়ালারা প্রতিবছর তাদের মন মতো ভাড়া বাড়িয়ে দেয় দাবি করে তিনি বলেন, সার্ভিস চার্জ, লিফটের চার্জ, জেনারেটরের তেলের দাম বৃদ্ধি, সিঁড়ি মোছার বুয়ার বেতন, দারোয়ানের বেতন, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, এ রকম অনেকগুলো মনগড়া কারণ দেখিয়ে তারা ভাড়া বাড়ায়। সেই সঙ্গে অ্যাডভান্স বা অগ্রিম ভাড়া নেওয়ার একটি প্রথা তারা চালু করেছে। যুক্তিহীনভাবে তারা এটা নিয়ে থাকে।
বাসা ভাড়া নেওয়ার পর বাড়িওলাদের নির্যাতন আরও বেড়ে যায় উল্লেখ করে বাহার বলেন, রাত ১০-১১টার মধ্যে গেট বন্ধ, বাড়ির ছাদে ওঠা যাবে না, বাসায় বেশি মেহমান আসা যাবে না, আসলেও বেশি দিন থাকা যাবে না, সময়মতো পানি না দেওয়া, ভাড়া দিতে ১-২দিন দেরি হলে রাস্তা-ঘাটে অপমান করা, ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া না দেওয়া, ভাড়ার রসিদ না দেওয়া, বাসার কোনো রিপেয়ার থাকলে করে না দেওয়া, এ রকম অসংখ্যভাবে ভাড়াটিয়ারা নির্যাতিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করলে ভাড়াটিয়াদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। বিনা নোটিশে তাৎক্ষণিক বাড়িছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। বাড়িওয়ালারা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ভাড়াটে গুন্ডা-মাস্তান দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং রাস্তা-ঘাট ও জনসম্মুখে অপমান করে। এসব নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি বাড়িভাড়া বৃদ্ধি রোধে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া আইন সংস্কারসহ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অন্য বক্তারা বলেন, বাড়িভাড়া আইনে সর্বোচ্চ এক মাসের ভাড়া অগ্রিম রাখার কথা বলা হলেও, বর্তমানে তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম দিয়েও অনেক জায়গায় বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না। বাড়িভাড়া একটা ব্যবসা। অথচ এই ব্যবসার জন্য তাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নাই। একজন ভাড়াটিয়া তার বেতনের ৬০-৭০ ভাগ দিয়ে দেয় বাড়িভাড়া হয়েছে। বাকি টাকায় কীভাবে তার জীবন চলে?
বক্তারা আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ভাড়াটিয়ার ভোটে আপনারা নির্বাচিত হবেন। সুতরাং তাদের কথা মাথায় রাখুন। ভাড়াটিয়াদের কথা ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করুন। নইলে ভাড়াটিয়ারা ভোট বর্জনে বাধ্য হবে।
বাহরানে সুলতান বাহারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত ফাতেমা, কেন্দ্রীয় নেতা হারুনুর রশিদ, শেফালী হোসেন, মাকসুদুর রহমান, শামসুল আলম প্রমুখ।
