ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুন যুক্ত হওয়া ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে দৃশ্যমান কোনো নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগেনি এখনো। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডটিকে পরিকল্পিত মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রায় ৫০ হাজার ভোটার ও তিন লাখ অধিবাসীর ঘনবসতিপূর্ণ এ ওয়ার্ডে নাগরিক অধিকার শতভাগ প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। যে প্রার্থীই জয়ী হন না কেন জলাবদ্ধতা, মাদক ও নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়গুলো জয় করতে তাকে চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে। সেই সঙ্গে ভোটের আগেই জিততে হবে ভোটারের মন।
৩৮ নম্বর ওয়ার্ডটি মূলত মোল্লাপাড়া, মধ্য বাড্ডার একাংশ, আদর্শনগর, নওয়াপাড়া, পূর্বপাড়া, মেসিটোলা এলাকা নিয়ে গঠিত। সরেজমিন এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ডিস্টিক রোডে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এলাকায় নেই কোনো ডাস্টবিন। মূল সড়ক কিছুটা ঠিক থাকলেও গলির রাস্তার বেহালদশা। নেই ল্যাম্পপোস্টও। রাতে বাসিন্দারা ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। অভিযোগ রয়েছে মাদকেরও বিরুদ্ধে। তবে নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় প্রচারণায় কিছুটা ধীরগতি থাকলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের মতো জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দিচ্ছেন ওইসব সমস্যা সমাধানের।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বাড্ডা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক বাড্ডা ইউনিয়নের দুবারের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেনকে নিয়ে। আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত বর্তমান কাউন্সিলর শেখ সেলিমও। এছাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দীনও (টুটুল) আছেন দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে।
সাবেক বাড্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেলে তিনি লড়বেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এলাকবাসীর বিপুল ভোটে জয়লাভও করবেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথমবার এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই তখন এলাকার সড়কের অনেক উন্নয়ন করেছি। তবে এখনো এলাকার সড়কের পাশাপাশি স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ করার দরকার আছে। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই এই কাজটা করব। কারণ এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে জমে যায় পানি। এখানকার আরেকটি সমস্যা হলো মাদক। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা নির্মূল করব।
বর্তমান কাউন্সিলর শেখ সেলিমও ব্যস্ত জনসংযোগে। নিজে বর্তমানে বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন দাবি করে টেলিফোনে তিনি বলেন, দল মনোনীত করলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি জানান, মাত্র আট মাস আগে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন করা যায়নি। তবে আবারও নির্বাচিত হলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সমন্বয়ভিত্তিক পরিকল্পিত উন্নয়ন করে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবেন তিনি।
অন্য দিকে মেজবাহ উদ্দীন টুটুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নির্বাচিত হবো। দলে থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমি প্রথমে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করব’।
তবে প্রার্থীদের এইসব মৌখিক আশ্বাসে পুরোপুরি আস্থা নেই এলাকাবাসীর। তাদের অতীত-বর্তমান কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভোট দেবেন ভোটাররা।
ময়নারবাগ এলাকার বাসিন্দা রুহুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের সমস্য অনেক। এলাকার স্যুয়ারেজ লাইনের সমস্যা। হালকা বৃষ্টিতে সড়কে জমে যায় পানি। এখানে রাতে সড়কবাতি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি আমরা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য যিনি যোগ্য প্রার্থী তাকেই ভোট দেব আমরা।
এই ওয়ার্ডের আরেক ভোটার রেফাত রেহান বলেন, ‘আমাদের এলাকার মূল সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো স্যুয়ারেজ লাইনের সমস্যা। অল্প বৃষ্টিতে দেখা যায় জলাবদ্ধতা। এছাড়া এলাকায় নেই কোনো খেলার মাঠ। মাদকের আগ্রাসনও ভয়াবহ। সামগ্রিক বিবেচনায় যাকে এগুলোর সমাধানের যোগ্য মনে হবে তাকেই ভোট দেব।
