সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঈনুল হক কলেজের অধ্যক্ষ দুই ছাত্রীকে কোদালের হাতল দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনার পর ওই দুই ছাত্রীকে সুনামগঞ্জ সদর হসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন সদর উপজেলার শাখাইতি গ্রামের তাসলিমা (১৯) ও মাগুরা গ্রামের নাঈমা আক্তার (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ওই
ছাত্রীরা জানান, তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়েন। এবারের এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় তারাসহ ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হন। এতে অধ্যক্ষ তাদের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে দেননি। এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম ফিলাপের সুযোগ পেতে কথা বলতে গতকাল দুপুরে তারাও কলেজে যান। এ সময় অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা বাগান পরিচর্যার কাজ করছিলেন। নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীরা তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানালে অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ তার হাতে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে ওই দুই ছাত্রীর পা ও পিঠে আঘাত করেন।
কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাখেরা আক্তার জানান, তারা ২৫-৩০ শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কাছে যান। পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাতেই অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি দুই ছাত্রীকে কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় কলেজের নৈশপ্রহরীসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও তিনি খারাপ আচরণ করেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুরোধে আবার ইংরেজি দুই বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু তারা কেউ দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গতকাল গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তাকে এক শিক্ষার্থী ধাক্কা দেয়। বিষয়টি দেখে কলেজের নৈশপ্রহরীসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে পড়ে কোনো শিক্ষার্থী আঘাত পেতে পারে। আমি কাউকে মারধর করিনি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুল হাসান বলেন, ‘ওই দুই ছাত্রীর পিঠ ও পায়ে আঘাতে রক্ত জমেছে, ফুলে আছে। তারা ভর্তি আছেন।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ওই দুই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
