পাটকলের সংস্কার চায় শ্রমিক কর্মচারীরা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪৮ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শতবছরের পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে লোকসান ঘুচানোর পরামর্শ দিয়েছে এ খাতের শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ)। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব দেন সংগঠনটির যুগ্ম সমন্বয়ক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। সংগঠনটির ধারণা, তিন ধাপে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব হলে বিজেএমসি আত্মনির্ভরশীল হবে এবং সরকারের আনুকূল্য ছাড়াই ব্যবসায়িক নিয়মে পরিচালিত হতে পারবে। এতে এই খাতের সংকটও দূর হবে। তারা শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

মন্টু বলেন, বিজেএমসি আজ লোকসানি প্রতিষ্ঠানের অপবাদ নিয়ে ধুঁকছে। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ২৬ হাজার স্থায়ী শ্রমিক, কয়েক লাখ বদলি শ্রমিক এবং কয়েক কোটি কৃষকের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছে। বর্তমানে বিজেএমসি পরিচালিত ২২টি কারখানায় হেসিয়ান, সেকিং ও সিবিসিÑ এ তিন ধরনের ১০ হাজার ৮৩৫টি তাঁত রয়েছে। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৭৩ মেট্রিক টন। এগুলো পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদনক্ষমতা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সহিদুল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো. আবু জাফর, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক আমিনসহ শ্রমিক নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ফের আমরণ অনশনে পাটকলশ্রমিকরা : মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা দাবিতে ফের আমরণ অনশন শুরু করেছেন খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯ পাটকলের শ্রমিকরা। গতকাল রবিবার দুপুর ২টা থেকে নিজ নিজ মিলগেটে অবস্থান নিয়ে ফের এই অনশন কমসূচি শুরু করেন তারা।

চলতি বছরের ১৭ নভম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন। অনশনের দুদিনের মাথায় ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক আবদুস সাত্তার মারা যান। চার দিনের টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েন দুই শতাধিক শ্রমিক। সব মিলিয়ে ১৩ ডিসেম্বর সাত্তারের জানাজা নিয়ে উত্তাপ ছড়ায় প্লাটিনাম জুট মিল এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বৈঠকে বসেন শ্রমিকদের সঙ্গে। ১৩ ডিসেম্বর রাতের ওই বৈঠকের পরে শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। এরপর তিন দফা আলোচনা হয় কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত