ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসানো এএসআই ক্লোজড

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২২ পিএম

হোসিয়ারি ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই এনায়েতকে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে।

সোমবার সকালে জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের নির্দেশে তাকে ক্লোজড করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দাবিকৃত ২ লাখ টাকা না পেয়ে জিকু (২৯) নামের এক হোসিয়ারি ব্যবসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছেন।

রবিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিকুর বাবা মজিবর রহমান পুলিশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে জিকু ৩টি মেশিন নিয়ে হোসিয়ারির ব্যবসা করে। গত ১২ ডিসেম্বর তার প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকেই আমার ছেলে ও অপারেটর শামীমকে মাদকাসক্ত হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানায় নিয়ে আসে এএসআই এনায়েত। পরে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে আমার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমি সন্ধ্যার পর থানায় গেলে সে আমাকে আবার শাসিয়ে বলে টাকা নিয়ে আসতে।

তিনি বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে স্ত্রীর জিনিস বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পরের দিন সুমনের মাধ্যমে এএসআইকে দেই। তার চাহিদা মতো টাকা না দেওয়ায় সে আমার ছেলে জিকু ও শামীমকে ১০০ গ্রাম পুরিয়া হেরোইন দিয়ে চালান দেয়।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত নয়, হেরোইনের মতো নেশাদ্রব্য দিয়ে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন আমি নামাজ শেষে এসে বাসার সামনে লোকজনের ভিড় দেখে এ ঘটনা জানতে পারি। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা বলে জানতে পারি ওই সময় আমার ছেলের কাছে কিছুই পায়নি, অতর্কিতভাবে এসে আটক করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, যে ছেলে জীবনে মাদক স্পর্শ করে নাই তাকে মাদক ব্যবসায়ী বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ না করেও অসাধু পুলিশ এএসআই এনায়েতের জন্য বিনা অপরাধে জেল হাজত খাটছে আমার ছেলে। এসব কতিপয় পুলিশ সরকারের বদনাম করছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমসআই এনায়েতকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার অপরাধের তদন্ত হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত