প্রাকৃতিক নিয়মে অতীতের বড় কোনো সভ্যতাই ধ্বংস হয়নি। বরং সভ্যতাগুলো নিজেদের সৃষ্ট কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুবিশাল রোমান সভ্যতা ধ্বংস হয়েছিল অতিমাত্রায় বর্ধন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় ও দুর্বল নেতৃত্বের কারণে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সভ্যতাও অতীতের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্রমশ পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জলবায়ুর স্থিতিশীলতার পরিবর্তন আসলে প্রকৃতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে ফসলের পরিমাণ কমে যাওয়া, ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ মরুকরণ শুরু হয়। আনাসাজি, তিওয়ানাকু, আক্কাদিয়ান, মায়া ও রোমান সভ্যতার পতনে জলবায়ুর স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যাওয়া ভূমিকা পালন করে।
মানুষের কারণে যখন পরিবেশগত অবক্ষয় সৃষ্টি হয় তখন সমাজব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু হয়। অত্যধিক মাত্রায় বনভূমি উজাড়, পানিদূষণ, মাটির গুণমান কমে যাওয়া এবং প্রাণবৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়ে যায় এই অবক্ষয়ের কারণে। পৃথিবীর ফুসফুস নামে খ্যাত আমাজান জঙ্গলের বিশাল এলাকা উজাড় করে দেওয়া হয়েছে উন্নয়নের নামে। বিজ্ঞানীরা এই উজাড়কে সভ্যতা ধ্বংসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সামাজিক বিভেদ শুরু হয় সম্পদ ও রাজনৈতিক অসাম্যের কারণে। অলিগার্কিক সমাজকাঠামো ও নেতাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কারণে সামাজিক অস্থিরতা শুরু হয়। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যাবে, প্রতিটি মহাদেশেই যুদ্ধের দামামা বাজছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নামে অগণতান্ত্রিক সরকারকাঠামোর দৌরাত্ম্যে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্থান ঘটছে দেশে দেশে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত রাষ্ট্রগুলো জনবিদ্বেষী নানান পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ঐতিহাসিক জোসেফ তাইনতারের মতে, সমাজগুলো তার নিজেদের সৃষ্ট জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিকতার চাপে ধ্বংস হয়ে যায়। সামগ্রিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নতুন ইস্যু তৈরি হয়। তবে জটিলতা থেকে প্রাপ্ত ফল অবশেষে হ্রাস পেতে শুরু করে। কিন্তু তত দিনে সমাজের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়।
চাহিদার তুলনায় অধিক জ্বালানি উৎপাদন সভ্যতা ধ্বংসের আরেক উপাদান। রাজনৈতিক বিজ্ঞানী থমাস হোমার ডিক্সনের মতে, রোমান সাম্রাজ্য পতনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে জ্বালানির অতিরিক্ত উৎপাদন অন্যতম বিষয়। এমনকি মায়ান সভ্যতাও একই কারণে পতনের শিকার হয়।
