আলোচনার তুঙ্গে রোহিঙ্গাদের এনআইডি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:২২ এএম

বিদায়ী ২০১৯ সালে নানা কারণেই আলোচনায় ছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া এবং তার সঙ্গে সংস্থাটির চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মীদের জড়িত থাকার ঘটনা ছিল সব আলোচনার শীর্ষে। পাশাপাশি ইসির সুরক্ষিত সার্ভারে রোহিঙ্গাদের তথ্য সংরক্ষণ নিয়েও ‘বিব্রতও’ হতে হয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক এ পুরো সংস্থাটিকে

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গত ১৮ আগস্ট ‘লাকী’ নাম দিয়ে রমজান বিবি নামে এক রোহিঙ্গা নারী স্মার্টকার্ড নিতে আসেন। এ সময় তার কাছে পুরনো এনআইডিতে ১৭ ডিজিটের নম্বর দেখে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে জানানো হয়, ভোটার হিসেবে লাকী নামে কাউকে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়নি। পরে মরিয়ম বিবি নামে ওই রোহিঙ্গা নারীকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

মরিয়ম বিবির তথ্যানুসারে স্বামী নজির আহমদকে গ্রেপ্তার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোহিঙ্গা নারীর স্বামী নজির আহমদ ১৯৯০ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন। প্রথমদিকে তিনি নগরের পতেঙ্গায় আশ্রয় নেন। পরে হাটহাজারী উপজেলায় গিয়ে বসতি করেন।

এনআইডি জালিয়াতির এ ঘটনা তদন্তে নির্বাচন কমিশন একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন এবং পুলিশ ইতিমধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী অফিস সহায়কসহ নির্বাচন কমিশনের ১১ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। গ্রেপ্তার করা হয়েছে জালিয়াত সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের।

পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষিত এ সার্ভারে রোহিঙ্গাদের কীভাবে অন্তর্ভুক্তি হলো, তা তদন্তে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশও তা তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে ইসির গঠিত তদন্ত দলের প্রধান এনআইডি উইংয়ের পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে আসে। তদন্ত দল চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এ সময় সার্ভার সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, এ মামলায় এই পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের কর্মী শাহনূর মিয়া, অস্থায়ী কর্মী মোস্তফা ফারুক, চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা নির্বাচন অফিসের মো. শাহীন, বন্দর থানা নির্বাচন অফিসের মো. জাহিদ হাসান, ডবলমুরিং থানা নির্বাচন অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পাভেল বড়–য়া এবং চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও মিরসরাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেন এবং সর্বশেষ নাজিমসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো গভীর তদন্ত চলছে। জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত