ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জিনজিরা ইউনিয়নের পূর্ব বন্দ ডাকপাড়া এলাকার ওই গুদামে পরপর তিনটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, আবাসিক এলাকায় গুদামটি অবৈধভাবে রাসায়নিক মজুদ করে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় তীব্র ভূ-কম্পনও অনুভূত হয়। স্থানীয়রা ভূমিকম্প মনে করে রাস্তায় নেমে আসেন। তীব্র শব্দে আশপাশের এলাকার ভবনগুলোর জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।
বিস্ফোরিত গুদামের পাশের একটি স্টিল আলমিরা কারখানার শ্রমিক মো. টুটুল জানান, এই গুদামঘরটি প্রায় ৮-৯ বছর ধরে এখানে আছে। দিনের বেলা সব সময় তালাবদ্ধই থাকে। তবে রাতের বেলা মাঝেমধ্যে খোলা হয়।
গতকালের বিস্ফোরণের বিষয়ে টুটুল বলেন, আজ (গতকাল) সকালে আমরা কয়েকজন কারখানায় কাজ করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে প্রথমে মনে করেছি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়েছে। এরপর আরও দুটি বিস্ফোরণ হয়। চারপাশ ধোঁয়া ও বাজে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ভয়ে আমরা যে যার মতো করে নিরাপদে চলে যাই। সে সময় আশপাশের বাড়িগুলো থেকে নারী-শিশুদের চিৎকার শোনা যায়।
এদিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র্যাব, উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। উৎসুক জনতা কদমতলী-নবাবগঞ্জ মহাসড়কে ভিড় জমালে দেখা দেয় তীব্র যানজট।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গুদামের পাশে থাকা হাজী নাসিরের বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় বাড়ির ভাড়াটিয়াদের অনত্র্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরে যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো নিহতের ঘটনা না ঘটলেও ছোটাছুটি করতে গিয়ে প্রায় ১০ জনের মতো আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, গুদামঘরগুলোর পাশেই রয়েছে বসতবাড়ি, স্টিলের আলমিরা তৈরির কারখানা, টিনশেডের দোকান, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। বিস্ফোরিত গুদামগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সোডিয়াম থায়ো, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট মনোহাইড্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডের বস্তা।
জিনজিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু জানান, প্রায় ১০ দিন আগে তিনি গুদামের খবর জানতে পেয়ে সেটি সরিয়ে নিতে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে মালিককে নোটিস দেন। কিন্তু সেটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই এ দুর্ঘটনা ঘটে গেল।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা মোহসীন বলেন, এ গোডাউনটিতে সোডিয়াম থায়ো, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট মনোহাইড্রেট ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড ছিল। ধারণা করা হচ্ছে সোডিয়াম থায়ো থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে। এগুলো মূলত ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসি। গুদামঘরটি অবৈধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সও ছিল না এর। এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে ভবন মালিক ও রাসায়নিক গুদামের মালিক হাজী মো. মারুফ হোসেনের মুঠোফোনটি বন্ধ রয়েছে।
