উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পার হলেও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় বরাদ্দ পাওয়া অনেক স্টলের নির্মাণকাজই শুরু হয়নি। অনেকগুলোয় শুধু টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। স্টল বরাদ্দের নিয়ম ভেঙে তৃতীয় পক্ষের কাছে বেশ কয়েকটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অনেকে একই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
বাণিজ্যমেলার স্টল বরাদ্দের দরপত্রে উল্লেখ ছিল, বরাদ্দ পাওয়া কোনো প্রতিষ্ঠান মেলা শুরুর আগে স্টল নির্মাণ ও সাজানোর কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে, তাদের বরাদ্দ বাতিলসহ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইপিবির উপপরিচালক (অর্থ) আবদুর রউফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরাদ্দ নিয়ে স্টল নির্মাণ না করার বিষয়টি নজরে এসেছে। কমিটি করা হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যেও মেলায় বাড়ছে দর্শনার্থী। তবে টিকিটের দাম নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আগামী শুক্রবার মেলা বন্ধ থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল মঙ্গলবার মেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের খেলাধুলার জোনসংলগ্ন কয়েকটি স্টলের জায়গা খালি পড়ে আছে। এখানে রেইনট্রি গাছের নিচে দুটি স্টলে কেবল টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। প্রাণের প্যাভিলিয়নের পেছনে দুটি স্টলে গতকাল নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখায় আগতদের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। মেলামাঠের পশ্চিম প্রান্তেও নির্মাণাধীন কয়েকটি স্টল দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেইনট্রি গাছের পাশের নির্মাণাধীন একটি স্টলের মালিক বলেন, ‘আবেদন করেও স্টল বরাদ্দ পাইনি। পরে বাড়তি অর্থে গত রবিবার স্টলটির অর্ধেক ভাড়া নিয়েছি। এজন্য নির্মাণে দেরি হয়েছে।’
মেলার ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাম পাশে প্রেস্টিজ স্টলের লাগোয় পশ্চিম পাশের স্টলটির প্রকৃত মালিক অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। মেলায় একই ব্যক্তি বিভিন্ন নামে তিনটি পর্যন্ত স্টল বরাদ্দ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একাধিক স্টল বরাদ্দ ও স্টল বাণিজ্যের বিষয়ে ইপিবির কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ইপিবি জানায়, এ বছর মেলায় মোট ৪৮৩টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে ৪৫০টি প্যাভিলিয়ন-স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাকিগুলো ইপিবির কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে বরাদ্দ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে যারা বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের বড় একটি অংশ প্রায় প্রতি বছরই মেলায় অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফায় বরাদ্দ পাওয়া ৩৩টি প্যাভিলিয়ন-স্টলের অনেকেই লটারির মাধ্যমেও ভিন্ন নামে বরাদ্দ পেয়েছিলেন। এসব ব্যবসায়ী ইপিবির কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জেনেশুনে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইপিবির এক কর্মকর্তা বলেন, গত ২৪-৩১ ডিসেম্বর ইপিবির অর্থ বিভাগের সিসি ক্যামেরা দেখলে দেখা যাবে, সেখানে মানুষের জটলা ছিল লক্ষ করার মতো। এরাই পরবর্তী সময়ে ৩৩টি স্টলের বরাদ্দ পেয়েছেন। প্রতি বছরই এরা এই সময়ে একই প্রক্রিয়ায় স্টল নিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে আবদুর রউফ বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানের পর ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে প্রথমে ৪৫০টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর আবারও টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু তেমন একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। এরপর আগের টেন্ডারে বাদ পড়াদের মধ্য থেকে যারা যোগাযোগ করেছেন, তাদের স্টল দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ ভিন্ন ভিন্ন নামে আবেদন করে থাকলে, সেটা আমরা জানব কীভাবে? আমাদের হাতে এখনো কয়েকটি স্টল আছে। যদি কেউ নিতে চায়, তাহলে তাদের বিশেষ ছাড়ে স্টল দেওয়া হবে।’
এদিকে আগামী শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন উপলক্ষে ওইদিন মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইপিবি। এতে ব্যবসায়ীদের কোনো আপত্তি না থাকলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মেলার সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। লাইবাহ রুটি মেকারের স্বত্বাধিকারী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মেলার প্রধান বেচাবিক্রি শুক্রবার হয়। মেলা কর্র্তৃপক্ষের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় বাড়ানো।’
দর্শনার্থীরা মেলার পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রবেশমূল্যের দাম ১০ টাকা বাড়ানোয় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে। আবু হেনা বলেন, ‘এত সুন্দর পরিবেশ আগে ছিল না। কিন্তু টিকিটের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।’
