সাংবাদিকদের ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব

পূর্বের পরোয়ানা ছাড়া দুই সিটির প্রার্থী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার নয়

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:০০ এএম

পূর্বের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কোনো প্রার্থী ও তার সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

এর আগে গত সোমবার বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ইসিতে গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ করে। ইসি তাদের দৃশ্যমান ঘটনা ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে আশ্বাস দেয়।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন গতকাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে অনুযায়ী আজ আমি ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচনের প্রার্থী বা সমর্থক তাদের পূর্বের কোনো আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে নতুন কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স করলে বা কোর্টের আদেশ থাকলে রাষ্ট্র বা জনগণের জান বা সম্পদ রক্ষার জন্য তারা ব্যবস্থা নেবেন। সম্ভবত আমরা আগামী ২২ তারিখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করব, তখন তাদের আরও নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটের খরচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় ইভিএমে করলে তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়।’ এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ইভিএমে অনেক কিছু টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত। এজন্য নানা রকম প্রশিক্ষণ দিতে হয়। মো. আলমগীর বলেন, ইভিএমে টেকনিক্যাল সমস্যা হলে প্রিসাইডিং অফিসার ঠিক করতে পারবে না, ফলে সেখানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টও (বিশেষজ্ঞ) থাকবে। সে হিসাবে যে বাজেট আছে সেটা করা হয়।

ইভিএমে জালিয়াতি করে ঢাকার বাইরের ভোটারের ভোটও পড়ার সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো সুযোগ নেই। আমরাও মেশিনটি দেখেছি, এখানে সব ডাটাবেজ করা। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ইনসার্ট করতে পারবে না। ডাটাবেজে মেইন সার্ভার থাকে, সেখান থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া কেউ ডিলিটও করতে পারবে না। ইনপুটও করতে পারবে না।’

ব্যালট ইউনিটে ফিঙ্গার প্রিন্ট না থাকায় ইভিএমে ভোট অরক্ষিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার পর ব্যালট ইউনিট ওপেন হওয়ার পর গোপন কক্ষে ভোটার নিজেই উপস্থিত থাকবেন। সেখানে তার সামনে অন্য কারও ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ব্যালটের চেয়ে ইভিএম প্রটেক্টেড, ব্যালটে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটার কেউ গেল না, ব্যালট নিয়ে একাই জমা দিয়ে এলো। ইভিএমে সে সুযোগ নেই।’

ভোটে গোপন কক্ষ ছাড়া সব জায়গায় সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, মোবাইল ক্যামেরা যার কাছে আছে সেই সাংবাদিক। এবার বলা আছে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার দেওয়া হবে। সাংবাদিকরা আচরণবিধি অনুযায়ী সবকিছু করতে পারবেন। তারা গোপন কক্ষ ছাড়া কেন্দ্রে অবাধে প্রবেশ করতে পারবেন। মো. আলমগীর বলেন, পুরো ভোটই প্রচার করা যাবে। কেন্দ্রের সামনে বসে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে। ভোট গণনার সময় দেখানো যাবে। এবার তো ব্যালট নেই। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই গণনা হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত