রিফাতই বাবাকে বলে যান তাকে হত্যায় জড়িতদের নাম

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:২৫ পিএম

বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হাসপাতালের শয্যায় তাকে হত্যায় জড়িতদের নাম বলে যান বাবা দুলাল শরীফকে।

এ মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে বাদী দুলাল শরীফের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তিনি এ তথ্য জানান।

বুধবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় দুবার বিরতি দিয়ে তার অবস্থা স্বাভাবিক হলে পুনরায় সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কাজ শুরু হয়।

বুধবার দুপুরে বরগুনা জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ আছাদুজ্জামান মিয়ার আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনেই বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এ সময় দুলাল শরীফ আদালতের কাছে তার ছেলে রিফাত হত্যার বিবরণ পেশ করেন। তিনি ছেলে হত্যার বিবরণ দিতে গিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে আদালত বাদীর বিরতি দেন।

পরে তিনি স্বাভাবিক হলে আবারো দুলাল শরীফ রিফাত হত্যার বিবরণ তুলে ধরেন এবং আবারো তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি অসুস্থ বোধ করলে ফের বিরতি দিয়ে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

মামলার এজাহার অনুসারে দুলাল শরীফ  আদালতের কাছে রিফাত শরীফ হত্যার বিবরণ তুলে ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। দুলাল শরীফ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান শেষ করেন।

তিনি আদালতে বলেন, তার ছেলে রিফাত শরীফকে আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজিরা বরগুনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেটের সামনে যখন কোপায় তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সাক্ষী মনজুরুল হাসান জনের ফোন পেয়ে তিনি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখেন তার ছেলে রিফাত শরীফের শরীরে অসংখ্য কোপের জখম। রিফাত শরীফ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তখন রিফাত শরীফ তার তাকে (বাদী) ১২ আসামিসহ আরো ১২-১৩ জনের নাম বলেন। এ ছাড়া রিফাত শরীফকে আসামিরা কলেজ গেটের সামনে যেভাবে কুপিয়েছে তার ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করতে পেরেছেন।

মামলার বাদী নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যার বিশদ বর্ণনা দিতে পেরেছি আদালতে। আমি আশা বাদী আদালতে ন্যায়বিচার পাব।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক কিসলু বলেন, বুধবার সকাল নয়টায় বরগুনা কারাগার হতে আসামি রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইয়ূম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, কামরুল হাসান সায়মুন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে মুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি তার চাচা আবু সালেহর সঙ্গে আদালতে হাজির হন।

তিনি আরো বলেন, বেলা ১০টায় কাঠগড়ায় সাক্ষ্য দিতে ওঠেন মামলার বাদী নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভুবন চন্দ্র হাওলাদার তার জবানবন্দি দেওয়ার আহ্বান করেন। বাদী দুলাল শরীফ দীর্ঘ সময় নিয়ে তার ছেলে হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরেন। এক সময় আদালত ১০ মিনিটের জন্য কোর্ট মুলতবি ঘোষণা করেন। আবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাদীকে আসামি পক্ষের জেরা শুরু করলে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর আবার তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের সাত আইনজীবী।

১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

গত বছরের ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনো পলাতক। এ ছাড়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও প্রিন্স মোল্লা জামিনে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত