খাবার আসবে হাওয়া থেকে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৩২ পিএম

‘হাওয়া খেয়ে বাঁচা’ বাক্যটা এখন আর কথার কথা নয়। বিজ্ঞানীরা পানি ও বাতাস থেকে প্রোটিন জাতীয় খাবার তৈরিতে সফল হয়েছেন। এ পদ্ধতিতে ইলেকট্রোলাইসিসের মাধ্যমে পানি থেকে আলাদা করা হাইড্রোজেনের সঙ্গে বাতাস থেকে নেওয়া কার্বন ডাইঅক্সাইড ও কিছু খনিজ পদার্থ বিশেষ এক জাতে ব্যাকটেরিয়াকে খাওয়ানো হয়। সেই ব্যাকটেরিয়াই তৈরি করে সয়ার মতো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার। তবে আক্ষেপের কথা, স্বাদহীন খাবারটি সরাসরি খাওয়া যায় না। অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে তার পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে নেওয়া যায়।বিবিসি বলছে, বাতাস থেকে খাদ্য তৈরির চেষ্টা ষাটের দশকের দিকে শুরু হলেও সেটায় প্রয়োগিক সফলতা দেখিয়েছেন ফিনল্যান্ডের একদল গবেষক। তবে সেটি বাজারে আসতে আরও অন্তত বছর দুই অপেক্ষা করতে হবে। গবেষকরা খাবারটির নাম দিয়েছেন ‘সোলেন’। তাদের দাবি, সোলেন তৈরিতে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন প্রায় শূন্যের কোঠায় রাখা সম্ভব। আর সেটা হলে কৃষির মাধ্যমে বর্তমানে জলবায়ুর যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এটিকে ব্যবহার করে বিস্কুট, পাস্তা, নুডুলস বা রুটি এমনকি কৃত্রিম মাংস বা মাছ তৈরি সম্ভব। এ প্রোটিন গবাদিপশুর খাবারও হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সয়া থেকে তৈরি প্রোটিন খুব উন্নত বলে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সয়াবিন উৎপাদনে ব্যাপক জমি ও পানি লাগে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব দিয়ে প্রোটিন তৈরিতে জমি ও পানির ব্যবহার অনেক কম হবে। ফলে বাঁচবে পরিবেশও।

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি শহরের পাশে অবস্থিতি এই ‘সোলেন’ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা পাসি ভাইনিক্কা জানান, এমন খাবার উৎপাদন প্রযুক্তির ধারণা প্রথম এসেছে ষাটের দশকে। তবে এখন তারা সেটি প্রায়োগিক বাস্তবায়ন ঘটানোর চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, এ প্রকল্পের জন্য তারা তহবিল তৈরি করছেন। এখনো পর্যন্ত ৫৫ লাখ ইউরো জোগাড় হয়েছে। ফ্যাক্টরি পর্যায়ে সোলেন তৈরির কাজ তারা শুরু করতে চান ২০২৫ সালে।

এদিকে পরিবেশবাদী ক্যাম্পেইনার জর্জ মনবিয়ট এ প্রোটিন উৎপাদনকারী প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন করতে গিয়ে পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাছ ধরা এবং খামারগুলো পৃথিবীর বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সবচেয়ে বড় কারণ। জলবায়ু পরিবর্তনেরও বড় কারণ এটি। তবে আশার আলো যখন প্রায় নিভে যাচ্ছে এরকম একটি সময়ে এসে ‘কৃষিবিহীন খাদ্য’ উৎপাদন এই গ্রহ এবং তার মানুষকে রক্ষায় বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত