ব্রিজের নিচ দখলে নিয়ে আ.লীগ নেতাদের বাজার

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২০, ১২:২৭ এএম

রাজধানীর কেরানীগঞ্জ-বাবুবাজার ব্রিজের নিচ (আগানগর ইউনিয়নের ব্রিজঘাট থেকে ইমামবাড়ি কবরস্থান পর্যন্ত) দখলে নিয়ে বাজার বসিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ব্রিজের নিচে আগে মাদকসেবীরা বসত। তাদের উঠিয়ে তারা বাজার বসিয়েছেন। এ ছাড়া এলাকাবাসীও বাজার থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, আগানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আসাদ হোসেন টিটু, সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ আলমসহ বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ব্রিজের নিচের সরকারি জায়গায় বাজার বসিয়েছেন। এরই মধ্যে বাজারের ২১৬টি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে; ৬০টি ভাড়া দেওয়া বাকি। এ ছাড়া ১০০টি দোকানের পজিশন বিক্রি করা হয়েছে। এসব পজিশন কিনেছেন তাদেরই আত্মীয়-স্বজনরা। একেকটি পজিশন দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পজিশন বিক্রি হয়নি এমন দোকান থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে মাসে নয় হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই নিউ গুলশান সিনেমার (কাদিরা হল) পাশের খালি জায়গায় আমরা বাজার বসাতাম, তখন প্রতিদিন ১৫০ টাকা দিতাম; গায়ে লাগতে না। টিটু ও মাহমুদ মিয়াই ভাড়া নিত। দুই বছর আগে সরকারি দলের লোকজন এসে ওই জায়গা থেকে উঠিয়ে দেয়। পরে পাশের রাস্তায় দোকনদারি করি। তারপরও প্রতিদিন ১০০ টাকা দিতে হতো। না দিলে তাদের লোকজন জোরপূর্বক উঠিয়ে দিত। অনেক সময় জিনিসপত্র ফেলে দিত। ৪-৫ মাস আগে ব্রিজের নিচে তারা পাকা জায়গা করে দেয়। একেকটা দোকান অগ্রিম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা ভাড়া। এ ছাড়া ১০০ টাকা খাজনা ও ১০০ টাকা কারেন্ট-পানি ও ময়লা পরিষ্কার বাবদ দিতে হয়। সব মিলিয়ে প্রতি দোকান বাবদ লাভ হোক আর লস হোক ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়।’ তারা আরও বলেন, ‘ছোট্ট একটা দোকান থেকে মাসে কয় টাকাই আর লাভ হয়, তারা এক প্রকার জুলুম করেই মাসে ৯ হাজার টাকা ভাড়া ও ২০০ টাকা প্রতিদিন খরচ নিচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ ঠিকমতো দেয় না, ঝাড়–ও নিজেদের দিতে হয়। এখানে যারা দোকানদারি করে সবাই গরিব, পেটের দায়ে এ কাজ করে।’

এত টাকা দিয়ে কেন দোকানদারি করেন, কেনইবা প্রতিবাদ করেন নাএমন প্রশ্নে কয়েকজন দোকানি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বড় হওয়ার পর এ ব্যবসাই শিখেছি। তাই এ ব্যবসা ছাড়তে পারি না। আর তাদের বিরুদ্ধে কে কথা বলবে, তারা কেরানীগঞ্জের মা-বাপ। টিটু মিয়া ও মাহমুদ মিয়া যা বলেন কেরানীগঞ্জে তা-ই হয়। শুধু রাজনীতি করেই তারা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তারা প্রশাসনও ম্যানেজ করে চলে; তাই কেউ কিছু বলার সাহস করে না।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মীর আসাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই এলাকার ব্রিজের নিচে আগে মাদকসেবীরা বসত। তাদের উঠিয়ে আমরা বাজার বসিয়েছি। আর একটা বাজার করতে টাকার প্রয়োজন তো হয়। বাজারটি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ভালোভাবে নির্মাণ করার পর তাদের থেকে টাকা নিয়েছি। এ ছাড়া এলাকাবাসীও বাজার থেকে উপকার পাচ্ছেন। আর আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাদের ভালো কাজ করতে দেন না।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত