ইরানের শীর্ষস্থানীয় জেনারেল কাসেম সুলেইমানিকে হত্যার আদেশ দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় দিকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচনা থেকে বাঁচতে ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ত্যাগের জন্য চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকে আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু ইউরোপের চুক্তিবদ্ধ দেশগুলো ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।
ট্রাম্পের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সুলেইমানিকে হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার সঙ্গে ফোনালাপ হয় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির। তিনি রুহানিকে বলেন, ‘ডাউনিং স্ট্রিট এই চুক্তিকেই বর্তমানে সবচেয়ে সেরা বলে মনে করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে খোলাখুলিই মিত্রদের নিয়ে ফক্স নিউজকে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই সময় তাদের (ইউরোপ) যতটা সাহায্য করার কথা ছিল, তারা তা করছে না। বিশ্লেষকদের মতে, সুলেইমানিকে হত্যার পর মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে, এমন সম্ভাবনা আঁচ করতে পারেননি ট্রাম্প ও মাইক। তারা উভয়েই বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলা ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, সুলেইমানি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের দূরত্বের শুরু মূলত ২০১৮ সালের মে থেকে, যখন ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসেন। ট্রান্স আটলান্টিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্লেষক র্যাচেল রিজ্জোর মতে, পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ পশ্চাৎগমনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সহিসংতা উসকে দেওয়া হিসেবে দেখতে শুরু করে। তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পকে অনুসরণ করে ইউরোপের মিত্ররাও যুদ্ধে ঝাঁপ দেবে বা তাদের সৈন্য পাঠাবে এমনটা আর হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, উভয় পক্ষের মধ্যেই ক্রমশ উত্তেজনা বাড়বে।’
ন্যাটোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু ন্যাটো এখন পর্যন্ত মৌখিক সম্মতিসূচক বক্তব্য ছাড়া আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এর কারণও ট্রাম্প। কারণ ট্রাম্প বারবার ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুলেছেন। ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানকে পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে না যেতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ইরানি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপানও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখার ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ সুলেইমানি হত্যার কয়েক দিন আগেই জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
