মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সম্পত্তির লোভে সন্তানদের পিটুনিতে আহত মায়া বেগম (৫৫) নামে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক মাস ২৮ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার সকাল ৮ টায় মায়া বেগম মারা যান।
এ ঘটনায় মায়া বেগমের ছেলে জাফর আলী তার সৎ ভাই আছিদ আলীসহ (৫০) আরও নয়জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় ১ ডিসেম্বর মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।
জাফর আলী অভিযোগ করেন, ‘আমার সৎ ভাই আছিদ আলী ও তার ভাইবোনেরা সম্পত্তির লোভে গত বছরের ১৫ নভেম্বর বিকেলে আমার মাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ওই দিনই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতেই সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আসামিরা আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ভয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৮ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
আছিদ আলী সিন্দুরখান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আছিদ আলীসহ আরও একজন ছাড়া অন্য সাত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।
এদিকে, পিটুনিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও মায়া বেগমের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরির জন্য ওসমানী মেডিকেল থেকে থানায় দেয়া রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ট্রাকের ধাক্কার কথা বলা হয়েছে। থানায় প্রেরিত এ রিপোর্ট দেখে নিহতের ছেলে জাফর ও বোন রুবিনা চ্যালেঞ্জ করলে তা ওসমানী মেডিকেল কর্তৃপক্ষ সংশোধন করে।
ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার মায়া বেগমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার এস আই দেলোয়ার হোসেন।
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, মায়া বেগম সিলেট ওসমানী হাসাপাতালে মারা গিয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে মেডিকেল ও সুরতাল রিপোর্ট আসার পর আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।
