বিআইডব্লিউটিএর আপত্তির কারণে ৯ মাস বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হতে যাচ্ছে গোমা সেতুর নির্মাণকাজ। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটি নদীতে নির্মাণাধীন গোমা সেতু নির্মাণে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিআইডব্লিউটিএর দাবি, তারা ওই অনাপত্তির বিষয় জানে না।
গত ২৩ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় ‘বিআইডব্লিউটিএর আপত্তি অগ্রহণযোগ্য’ বিবেচিত হওয়ায় ওই সেতু নির্মাণে আর কোনো জটিলতা থাকছে না। পানি থেকে সেতুর উচ্চতা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) আপত্তির কারণে প্রায় ৯ মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানায়, বরিশাল জেলা সদরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য এবং মানুষের যাতায়াত সুগম করার লক্ষ্যে বরিশাল-দিনারেরপুল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়কের ১৪তম কিলোমিটার স্থানে রাঙ্গামাটি নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রায় এক বছর পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে বিআইডব্লিউটিএ ‘পানি থেকে স্প্যানের উচ্চতা কম’ রাখা হয়েছে অভিযোগ তুলে আপত্তি জানায়। ওই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত ডিসেম্বরে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তাদের আপত্তি অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় কাজ শুরুর নির্দেশনা পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হবে। তবে ল্যান্ডে (দুই পাড়ে) আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেখানে এখন ১১ কোটি টাকার মতো লাগবে। তাই ব্যয় কিছুটা বাড়বে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেতু নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল কার্যালয় জানায়, নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বর্তমান অবস্থা দেখলে হবে না। আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর পরের অবস্থা চিন্তা করে সেতু নির্মাণ করতে হবে। তা ছাড়া বর্তমানে আমাদের দেশে ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশের বড় বড় মালবাহী জাহাজ আসছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসদু খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোমা সেতুও একই উচ্চতায় সেতু নির্মিত হবে।
