বছরজুড়ে গ্যাস সংকট। বিকেল পর্যন্ত চুলা জ¦লে না। শীতে সংকট আরও বাড়ে। রাত জেগে পরদিনের জন্য রান্না করতে হয়। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩১ নন্বর ওয়ার্ডের ইমামগঞ্জের বাসিন্দা আকলিমা বেগম। তার মতোই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়লেও রাস্তাঘাট ও অলিগলি রয়ে গেছে আগের মতো। এতে যানজটে প্রতিনিয়ত দুর্বিষহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
পুরান ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা চকবাজার, বেগমবাজার ও মৌলভীবাজার নিয়ে ৩১ নম্বর ওয়ার্ড। তিন বর্গকিলোমিটারে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সারা বছরই এই এলাকায় যানজট লেগে থাকে। সিটি কর্র্তৃপক্ষের অবহেলায় রাস্তাগুলোর বেহালদশা। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ ওয়ার্ডের বড় বড় পাইকার আড়ত থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব পেলেও উন্নয়নে নজর দেয়নি। ফলে সব ধরনের নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত বাসিন্দারা।
বেগমবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদির দেশ রূপান্তরকে জানান, ওয়ার্ডে তিনি ২০ বছর ধরে বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা তলিয়ে যায়। বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি লেগেই থাকে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী এই এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
এত গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড অথচ কমিউনিটি সেন্টার, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পার্ক, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার, গণশৌচাগার ও গ্রন্থাগার নেই। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্যুয়ারেজের বেহালদশা দেখা গেছে। ড্রেনগুলোতে জমে রয়েছে বর্জ্যরে স্তূপ। বেগমবাজারের বাসিন্দা মো. সাকের জানান, ১৯৫৮ সালে এই এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইন তৈরি করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তা কখনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে স্যুয়ারেজগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় পয়ঃবর্জ্য সরাসরি ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব ময়লা চারপাশে ছড়িয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে ভোটাররা বলছেন, সমস্যাগুলো সমাধান করে পূর্ণাঙ্গ নাগরিক সেবা যিনি নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকে তারা বিজয়ী করবেন। নাগরিকদের এসব সংকটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়ার্ডের বাসিন্দারা যে পরিমাণ রাজস্ব দেয়, তার ১০ শতাংশও সেবা পান না। নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করব। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পনা নেওয়া হবে। বেকারদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। সংস্কারের মাধ্যমে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার উন্নত করা হবে।’
বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এমএ কাইয়ুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান আমলে ওয়ার্ডের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বেশিরভাগ রাস্তাঘাটের বেহালদশা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় তড়িঘড়ি করে কিছু রাস্তায় কাজ করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে গ্যাস ও পানি সংকট নিরসন করে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এলাকাবাসীকে একটি বাসযোগ্য আধুনিক ওয়ার্ড উপহার দেব।’
