আইনজীবীদের সুরক্ষার বিধান নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। রুলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অর্ডারস অ্যান্ড রুলস-১৯৭২ অনুযায়ী দেশের আইনজীবীদের সুরক্ষার বিধান সংযোজন করতে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুলসে আইনজীবীদের সুরক্ষার বিধান সংযোজন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। গত ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জে আর খাঁন রবিনের পক্ষে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী ওই দিন জানান, আদালতে যেকোনো ব্যক্তি কর্র্তৃক হলফনামা সম্পাদনের (এফিডেভিট) মাধ্যমে মামলা করা যায়। এ সুযোগে দালাল ও জালিয়াতচক্র সুবিধামতো কাগজপত্র একজন তদবিরকারীকে দিয়ে আইনজীবীদের কাছে পাঠান। আর আইনজীবী এসব সংযুক্ত কাগজে সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করে মামলা করেন। কিন্তু পরে সেগুলো আদালতে জাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয় না।
তিনি আরও জানান, বার কাউন্সিল রুলস অনুযায়ী অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তির বিধান থাকলেও আইনজীবীদের সরল বিশ্বাসে মামলা সংক্রান্ত কোনো কাজের জন্য দায়মুক্তির বিধান নেই, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
