অদম্য বাবা: জুতা সেলাইয়ের ফাঁকে চলছে ছেলের পাঠ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৬:৩৪ পিএম

নিজে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে আর পেরে ওঠেননি। নিজের স্থায়ী ঠিকানা ছেড়ে উঠে এসেছেন ব্যস্ত ঢাকায়। হাতে তুলে নিয়েছেন জুতার কালি, সেলাইয়ের সুঁই-সুতা। অন্যের চলার পথ মসৃণ করতে করতে তার চোখেও স্বপ্ন জাগে নিজের ছেলেমেয়ে যেন তার মতো কষ্ট না করে। সে জন্য ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন স্কুলে। অন্যের জুতা চকচকে করে তোলার পাশাপাশি নিজের ছেলের জীবনটাও উজ্জ্বল করার অদম্য ইচ্ছা তার।

আমাদের আলোকচিত্রী রুবেল রশিদের ক্যামেরায় এভাবে ধরা পড়েন প্রাণেশ চন্দ্র রিসি।

বুধবার তার ছবি তুলতে গেলে কথা হয় রুবেল রশিদের সঙ্গে।

প্রাণেশ রিসি জানান, তাদের বাড়ি ফরিদপুর। জীবনের তাগিদে ঢাকায় এসেছেন। থাকেন মিরপুর-১৪ নম্বরে। সেখান থেকে প্রতিদিন সকালে এক হাতে জুতার কালি, সারাইয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, আরেক হাতে ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দীর্ঘ দিন ধরে মুচির কাজ করে আসছেন তিনি। ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন সেগুনবাগিচা প্রাইমারি স্কুলে। তার নাম নক্ষত্র। সে এখন পড়ছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে। তার একটি ছোট বোন রয়েছে। সন্ধ্যা হতে হতে তারা ফিরে যান মিরপুরে। তার আগ পর্যন্ত ছেলেকে যতদূর পারেন ক্লাসের পড়া দেখিয়ে দেন।

রিসি জানান, তার ছেলেকে নিজের অবস্থায় তিনি দেখতে চান না। ছেলে যেন নিজের ও দেশ-মানুষের জন্য কিছু করতে পারে সেই স্বপ্ন তার।

image

বুধবার দুপুরে বাবা ও ছেলের হার মানতে না চাওয়ার এ ছবি তোলা হয়। যা বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়। বাবার এমন চেষ্টাকে স্বাগত জানান অনেক পাঠক। তারা এমন ছবি দেখে আপ্লুত বলে জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত